শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর, আমার অহংকার

আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। আমার জন্মই হয় নি তখন। কিন্তু আমার বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর কাছে শুনেছিলাম কী আবেগ নিয়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষ একাত্ম হয়েছিলেন দেশ মাতৃকাকে হানাদার বাহিনীর শিকল থেকে মুক্ত করতে। তাঁর কাছে আরও শুনেছিলাম কিছু অমানুষ, হায়েনাই শুধু স্বাধীনতাঁর বিরোধী ছিলো এবং সেই সব কুলাঙ্গার মীর জাফরদের জন্য আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের সেরা সন্তানদের। আমি আমার বাবার কথা শুনে অবাক হয়েছি, আবার হেসেছি। তখন যে দেশের ক্ষমতায় স্বৈরাচার এরশাদ! বাবাকে প্রশ্ন করেছিলাম- কিছু বুঝতে পারার পর থেকেই দেখছি স্বৈরতন্ত্র, দেখছি মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত, দেখছি রাজাকাররা পুনর্বাসিত, শুনেছি রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। বাবাকে প্রশ্ন করেছিলাম- তোমরা কি আমাদেরকে এই সব দেবার জন্য স্বাধীনতা এনেছিলে? প্রশ্ন করেছিলাম, ৭১ এ তোমরা কীভাবে সবাই এক সত্ত্বায় মিশে গিয়েছিলে? আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা কোন উত্তর দিতে পারে নি, নিশ্চল নিশ্চুপ ছিলো। তাঁর চেহারায় সেদিন দেখেছিলাম প্রচন্ড লজ্জা, হতাশা, ক্ষোভ।

৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনে আমি ঢাকায় ছিলাম না। তখন খুব একটা বড়ও ছিলাম না। পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র আমি তখন। নভেম্বর থেকে আন্দোলনের আঁচ কিছুটা টের পেতাম, কিছুটা বুঝতে পারতাম। বাবার কাছে থেকে প্রতিদিনের আপডেট শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। মনে আছে ৬ই ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতনের পর ছোট্ট মৌলভীবাজার শহরে চিৎকার করে বেড়িয়েছিলাম- “হৈ হৈ রৈ রৈ, এরশাদ চোরা গেলো কৈ?” কিন্তু তখনো গণ জাগরণের মূল উত্তাপটা ঢাকায় না থাকাতে আর ছোট হওয়াতে অতটা বুঝতে পারে নি। কিন্তু নতুন সূর্য উঠার দিন যে সামনে আসতে যাচ্ছে- সেটা বুঝতে পারছিলাম।

খুব দ্রুতই আশাভঙ্গ হলো, যখন একদিন বাবা অফিস থেকে এসে প্রচন্ড হতাশ কন্ঠে জানালেন, রাজাকার আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট হয়েছে। রাজাকারদের দল, হায়েনাদের দল জামাতে ইসলামী ক্ষমতার জোটে আছে। রাজাকার, যুদ্ধপরাধীদের বিচার হবে না! তাই ৯৬-এ আমি যখন এস এস সি পরিক্ষার্থী, মনে আছে পড়াশোনা বাদ দিয়ে “নৌকা, নৌকা” বলে চিৎকার করেছি- আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করার জন্য নয়, ভেবেছিলাম আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশ রাজাকারমুক্ত হবে। বিধাতা মুচকি হেসেছিলেন! আমরা একই মুদ্রার এপিঠ- ওপিঠ দেখলাম। জনগনকে তারা বোকা ভেবেছিলো, কিন্তু জনগন বোকা নয়। আওয়ামী লীগের জায়গায় এলো আবার বিএনপি।

কিন্তু বিএনপি খেললো চরম খেলা। রাজাকাররা জাতীয় পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে চোখের সামনে ঘুরতে লাগলো। ততদিনে আমি এবং আমরাও অনেক বড় হয়ে উঠেছি- আসল ইতিহাস জানতে শুরু করেছি। তরুন প্রজন্মের ভিতর রাজাকার, যুদ্ধপরাধী আর জামাত শিবির বিরোধী মনোভাব গড়ে উঠেছে। কিন্তু তখনো কোনো স্বতঃস্ফুর্ত গণ জাগরণ দেখেনি। শুধু ৭১ এর একাত্ম হওয়ার ব্যাপারটি তখনো রুপকথার মতোই মনে হতে লাগলো। ভেবেছিলাম এই জনমে আর একাত্ম বাংলাদেশ দেখতে পাবো না। বিধাতা আবারো মুচকি হাসলেন।

আজ ৮ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ সাল। 


আজ বাবাকে করা একটি প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। কীভাবে তাঁরা ৭১ এ একাত্ব হয়েছিলো। আজ গন জাগরণ কাকে বলে- নিজে বুঝেছি, এর উত্তাপ গায়ে মেখেছি। আজ হারিয়ে গিয়েছি নতুন আবিষ্কারের নেশায়, উল্লাসিত হয়েছি অসম্ভব সুন্দর বাংলাদেশের অসম্ভব দেশ প্রেমিক জনগণকে দেখে, আপ্লুত হয়েছি দেশ জোড়া বন্ধু দেখে, বিহবল হয়েছি দেশের বাইরে থাকা দেশপ্রেমিকদের দেশ নিয়ে ভাবনা দেখে।

Projonmo Chattor প্রজন্মে চত্বরে জনতার ঢল (ছবি কৃতজ্ঞতাঃ ফেসবুক)

কি বললেন? আপনি দেখেন নি? সময় আছে এখনো, চলে আসুন শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে, স্বাক্ষী হোন এক অসাধারণ ইতিহাসের। আর অবশ্যই বজ্র কন্ঠে বলে উঠুন, “কাদের মোল্লা, নিজামী, গো আ, মুজাহিদ, সাকা, বাচ্চুসহ সকল যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি চাই, জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাই, জামাত শিবির নিয়ন্ত্রিত সকল ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বর্জন চাই।”

আসুন আপনি প্রজন্ম চত্বরে, আপনার অপেক্ষাতেই আমরা আছি।

আমি আজ ক্ষমা করতে আসি নি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি

এক দফা, এক দাবী- কসাই কাদেরের ফাঁসি, ফাঁসি।
বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশের পর আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম, আওয়ামী লীগের পদ্মা সেতু নাটকও হজম করে ফেলতে চেয়েছিলাম, দুই আবুলরেও ক্ষমা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম- শুধুমাত্র একটি জিনিসের আশায়— সব রাজাকারের ফাঁসি চাই আমি, জামাত শিবিরের নিষিদ্ধ ঘোষনা চাই আমি।
এই রায় সাজানো, আরেকটি আওয়ামী নাটক। কিন্তু বাংলার জনগণ এতো বোকা নয়! সামনে আরো দিন আছে! ভোট প্রার্থনা করতে আসার আগে হাসিনার বোঝা উচিত- জনগন কি চায়।
বাংলার জনগন এখন–
গোলাম আযমের ফাঁসি চায়
নিজামীর ফাঁসি চায়
সাইদীর ফাঁসি চায়
কাদের মোল্লার  ফাঁসি চায়
সাকা চৌ এর ফাঁসি চায়
সকল যুদ্ধপরাধীর ফাঁসি চায়
আর এই মুহূর্তেই বাচ্চু রাজাকারকে বন্দী দেখতে চায়, ফাসির রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চায়, ————– নইলে—–
আগামী নির্বাচনে আমি আমার বাসার দরজায় কোনো আওয়ামী নেতাকে ভোট চাইতে আসতে দিবো না।

কিছু নতুন ও পুরানো বোলচাল

আমি বোধহয় কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমায় অথবা সবকিছুর প্রতিক্রিয়া বোধহয় একটু দেরীতে দেখাই। এর কারণ কি- সেটা নিয়ে ভেবেছি। দেখলাম অনেক সময় খবর দেরীতে আমার নজরে আসে, তখন আর প্রতিক্রিয়া দেখাতে ইচ্ছে করে না, অথবা অনেক সময় খবরটা জেনেও অন্য অনেকের প্রতিক্রিয়া পড়ে আর নিজেরটা জানাতে ইচ্ছে করে না। কিন্তু আজ যে কি হলো! কিছু নতুন পুরানো খবরের অনুভূতি জানাতে কেনো মনটা এতো আনচান করছে?

(১)

গত দুইদিন ধরে একটি খোলা চিঠি বা কলাম খুব করে পঠিত হচ্ছে। চিঠিটা যে The Washington Times-এ প্রকাশিত হয়েছে, সেটা বোধহয় একটি কারণ। আরেকটি কারণ হচ্ছে এই কলামের সাথে বাংলাদেশের নাম আছে। তবে প্রধান কারণ মনে হচ্ছে – এর লেখিকা। তিনি আর কেউ নন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, বর্তমানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, যাকে আমরা আপোষহীন নেত্রী বলে অনেক আগে থেকেই জানতাম- বেগম খালেদা জিয়া।

লেখাটির অনেক ক্রিয়া- প্রতিক্রিয়া পড়েছি, পড়েছি মূল লেখাটাও। একই সাথে মাথায় এসেছে অনেক চিন্তাও। লেখায় কি আছে, সেটা নিয়ে আলোচনায় যাবো না, আপনারা এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন। আমি শুধু আমার চিন্তাগুলিই শেয়ার করতে চাই।

আমার জেনে খুব ভালো লাগছে বেগম খালেদা জিয়ার লেখার ব্যপ্তি বাংলাদেশের সীমানা ছেড়ে মার্কিন মুলুক পর্যন্ত পৌঁছেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার বাসসের মাধ্যমে একটি লেখা কিছু অনলাইন পত্রিকা এবং ব্লগে এবং জাতীয় পত্রিকায় দিয়েছিলেন। তিনি বেশ কিছু বইও লিখেছেন। কিন্তু আমার জানা নেই তাঁর কোনো লেখা আমেরিকার মেইন স্ট্রীমের কোনো পত্রিকায় এসেছে কি না। সেদিক দিয়ে খালেদা জিয়া প্রশংসার দাবীদার। আরো একটি ব্যাপারে খালেদা জিয়া প্রশংসা দাবী করতেই পারেন, সেটি হচ্ছে- অসম্ভব সুন্দর ইংরেজী লেখার জন্য। তাঁর সম্পর্কে আমার পূর্ব ধারণাটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। দুর্মূখেরা বলে থাকেন তিনি না কি ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তারা যে কত মিথ্যা কথা বলেন, এই সুরচিত লেখাটাই তার প্রমাণ।

আরেকটি চিন্তা আমার মাথায় এসে ভর করেছে। আসলে চিন্তা নয়, তিনি একটি জিনিস জাতির কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছেন। দেশে চলমান যুদ্ধপরাধী ট্রাইবুনাল সম্পর্কে তাঁর অভিমত। আগে অনেকেই এটা নিয়ে ফিসফাস করতেন, তিনি আর সে সুযোগ দিতে চাইলেন না। তিনি এই কলামের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন তিনি যুদ্ধপরাধীদের বিচার চান না, তিনি গোলাম আযম, নিজামী, সাইদী, বাচ্চু, সাকা চৌধুরী গংদের বিচার চান না-  মুক্তিযুদ্ধের সময় এই হায়েনাদের ভূমিকা যতোই অপরাধমূলক হোক। অসংখ্য ধন্যবাদ বেগম খালেদা জিয়া, আপনার মনের কথাটি এতো সুন্দরভাবে অকপটে বলার জন্য। আমার একটি পূর্ব ধারণা ছিলো, বিএনপির জন্ম জলপাই উর্দি থেকে হলেও, বিরোধীরা তাদেরকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি না বললেও- বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি নয়। আমার এই ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করার জন্যও খালেদা জিয়ার ধন্যবাদ প্রাপ্য।

ওহ হো! আরেকটি ভ্রান্ত ধারণার অবসান করেছেন খালেদা জিয়া। ৮৬- এর নির্বাচনে অংশগ্রহন না করে যে আপোষহীন ভাবমূর্তি তিনি গড়ে তুলেছিলেন, ১৫ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন দিয়ে (এরপর নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে) যে ভাবমূর্তিকে তিনি আরো বাড়িয়ে নিয়েছিলেন, সামরিক শক্তি সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিদেশে না গিয়ে যেটাকে তিনি এভারেষ্টসম উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ভাবমূর্তি যে নিছকই একটা মিথ- সেটা তিনি এই খোলা চিঠিই বলেন আর কলামই বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। আমরা এখন আশায় আশায় আছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা বিশ্ব তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসবেন এবং বাংলার আপোষহীন নেত্রীকে আবার আপোষহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন।

এই বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।

(২)                              

পুরানো একটি ব্যাপার নিয়ে একটু কথা বলতে চাই। প্রসঙ্গ- বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসি। আমি ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছিলাম, সেটিই এখানে আবার দিচ্ছি (শুধুমাত্র রেকর্ড থাকার জন্য)-

আজ সারাদিন খুব ব্যস্ত ছিলাম। দিনের ক্লান্তি শেষে রুমে এসে কিছুক্ষন আগে যখন ল্যাপটপ খুলে বসলাম– আমি বাকরুদ্ধ, শিহরিত, আনন্দিত…!

জন্মেছি আমি অনেক পরে। ৭১ এর যুদ্ধ আমি দেখিনি। যে সময়টা পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পড়ার কথা, সঠিক ইতিহাসটা তখন জানি নি। রাষ্ট্রযন্ত্রে শুনেছি অনেক অপপ্রচার। কিন্তু একজন মানুষ আমাকে ইতিহাসের পাঠ দিয়েছেন- সঠিক এবং সম্পূর্ণভাবে এবং প্রচন্ড আবেগ নিয়ে- তিনি আমার বাবা। সেই থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর রাজাকার আমার দুইটি চরম ঘৃনার জন্তু।

৯১- এ রাজনীতির কিছুই বুঝতাম না, ক্লাস সিক্সে বোধহয় পড়তাম। মনে আছে, তারপরও পাড়ায় পাড়ায় নৌকা নৌকা বলে চেঁচিয়েছি- এই আশায় যে নৌকা ক্ষমতায় গেলে বিটিভিতে “শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠ” গানটি শুনতে পাবো, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি হবে, পাকিস্তান আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবে আর গোলাম আযমের (ছোট ছিলাম বলে তখনো নিজামী, সাইদী গংদের সম্পর্কে কম জানতাম) ফাঁসি দেখবো। সেই বছর আমার আশা পূর্ণ হয়নি!

৯৬-এ আমার প্রথম আশা পূর্ণ হলো। আর আওয়ামী লীগের এবারের শাসনামলের অনেক কাজ নিয়ে আমি সংক্ষুদ্ধ, বিক্ষুদ্ধ, আশাহত হলেও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি হওয়াটা ছিলো আমার জন্য চরম পাওয়া।

আর আজ?

পৃথিবীবাসীকে আমি জোর গলায় বলতে পারবো আমরা যত বছরই হোক, রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের কখনো ক্ষমা করিনি, করতে পারি না। আমার সন্তানকে আমি বলতে পারবো- আমরা যেমন জাতির জনকের হত্যাকারী কুলাঙ্গারদের ফাসিতে ঝুলিয়েছি, ঠিক তেমনি জাতির বেইমান রাজাকার গোলাম আযম, নিজামী, সাইদী, সাকা, বাচ্চু গংদেরও ফাঁসিতে ঝুলানোর ব্যবস্থা করেছি। শুধু একটি কষ্টই আমার রইলো- আমার ইতিহাস পাঠের প্রথম শিক্ষক, আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা সেটা দেখে যেতে পারলেন না। 

আমার এখন আর দুইটি ইচ্ছাই আছে- আমি সবগুলোর ফাঁসি দেখে যেতে চাই, আর দেখতে চাই- পাকিস্তান আমাদের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাচ্ছে।

(৩)

এবার একটু রাজনীতির বাইরে যেতে হচ্ছে, ইদানীং একটি গান নিয়ে খুব আলোচনা শুনতে পাচ্ছি। যদিও অনেক দেরীতে আমি গানটির ভিডিও দেখেছি এবং শুনেছি।

গানটি হচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের লেখা ও সুর করা (যদিও মূল সুরটি শিলাইদহের ডাকপিয়ন গগন হরকরার একটি গান থেকে নেওয়া) “আমার সোনার বাংলা” ।

যেহেতু এটি রবীন্দ্রনাথের লেখা, তারমানে এটি একটি রবীন্দ্রসংগীত। এই গানটির আরো একটি বিশেষ পরিচয় আছে। সেটা হচ্ছে এটি আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

এই গানটি সাম্প্রতিককালে একটি ব্রিটিশ বাংলাদেশী ব্যান্ড দল “ক্ষ” আধুনিক যন্ত্রসহ গেয়ে ফেসবুক, ইউটিউবে আপলোড করেছে। বিতর্কের সূত্র এরপর থেকেই।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বা বাজানো বা শোনা নিয়ে একটি আইন আছে, যা ‘জাতীয় সঙ্গীত বিধিমালা’১৯৭৮ নামে পরিচিত। এছাড়াও  বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় প্রতীক অবমাননা (সংশোধনী) আইন ২০১০- নামেও একটি খসড়া আছে। তদুপরি, বেশ কিছুদিন আগেই মোবাইল ফোনে জাতীয় সংগীত রিং টোন হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টের রায়ের উদাহরণও আছে। তাই আমার কাছে মনে হয় জাতীয় সংগীত ব্যাপারটি একটি প্রচন্ড স্পর্শকাতর বিষয়। তাই এটা নিয়ে কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভালো এবং অনুচিত (এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে)।

‘ক্ষ’ অবশ্য তাদের গানের কোথাও এটা বলেনি যে তারা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গাচ্ছে। মিউজিক ভিডিওতে লেখা ছিলো- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’।

তাই আমি ধরে নিচ্ছি এটি তারা রবীন্দ্র সংগীত হিসেবেই গেয়েছে। আর যেহেতু গানটিতে অংশগ্রহনকারী কেউই বাংলাদেশের নাগরিক নয় (বোধহয় দুইজন আছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত), এবং দৃশ্যায়নও বাংলাদেশে হয় নি, আমার কাছে মনে হচ্ছে জাতীয় সংগীত সংক্রান্ত আইনগুলো এই গানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উপরন্ত, গানটি শুরু হয়েছে দ্বিতীয় প্যারা থেকে। আমি যতদূর জানি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মেধাসত্ত্ব বিষয়টি বোধহয় মেয়াদ পেরিয়ে গেছে (আমার জানায় ভুল থাকতে পারে, কেউ সঠিকটি জানালে বাধিত হবো), তাই কেউ যদি রবীন্দ্র সংগীত ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন উপস্থাপনায় পরিবেশন করতে পারে, তাহলে ক্ষতি কি!

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমাদের জাতীয় সংগীতের সুরটিও কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের করা আসল সুর নয়

আমার কাছে তাই মনে হয়েছে- ‘ক্ষ’ এর গাওয়া গানটিকে খুব একটা ধর্তব্যের মধ্যে আনা উচিত হবে না। কারণ, ওদের গাওয়া গানটিকে আমি জাতীয় সংগীত হিসেবে বিবেচনাই করছি না। আর রবীন্দ্র সংগীত হিসেবে বিবেচনা করলে সোহিনী আলমের গাওয়াটা খারাপ লাগেনি, যেমন খারাপ লাগেনি কম্পোজিশনটাও।

যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর চাই, অতি দ্রুত—-

আজ সারাদিন খুব ব্যস্ত ছিলাম। দিনের ক্লান্তি শেষে রুমে এসে কিছুক্ষন আগে যখন ল্যাপটপ খুলে বসলাম– আমি বাকরুদ্ধ, শিহরিত, আনন্দিত…!
জন্মেছি আমি অনেক পরে। ৭১ এর যুদ্ধ আমি দেখিনি। যে সময়টা পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পড়ার কথা, সঠিক ইতিহাসটা তখন জানি নি। রাষ্ট্রযন্ত্রে শুনেছি অনেক অপপ্রচার। কিন্তু একজন মানুষ আমাকে ইতিহাসের পাঠ দিয়েছেন- সঠিক এবং সম্পূর্ণভাবে এবং প্রচন্ড আবেগ নিয়ে- তিনি আমার বাবা। সেই থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর রাজাকার আমার দুইটি চরম ঘৃনার জন্তু।
৯১- এ রাজনীতির কিছুই বুঝতাম না, ক্লাস সিক্সে বোধহয় পড়তাম। মনে আছে, তারপরও পাড়ায় পাড়ায় নৌকা নৌকা বলে চেঁচিয়েছি- এই আশায় যে নৌকা ক্ষমতায় গেলে বিটিভিতে “শোনো একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠ” গানটি শুনতে পাবো, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি হবে, পাকিস্তান আমাদের কাছে ক্ষমা চাইবে আর গোলাম আযমের (ছোট ছিলাম বলে তখনো নিজামী, সাইদী গংদের সম্পর্কে কম জানতাম) ফাঁসি দেখবো। সেই বছর আমার আশা পূর্ণ হয়নি!
৯৬-এ আমার প্রথম আশা পূর্ণ হলো। আর আওয়ামী লীগের এবারের শাসনামলের অনেক কাজ নিয়ে আমি সংক্ষুদ্ধ, বিক্ষুদ্ধ, আশাহত হলেও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি হওয়াটা ছিলো আমার জন্য চরম পাওয়া।
আর আজ?
পৃথিবীবাসীকে আমি জোর গলায় বলতে পারবো আমরা যত বছরই হোক, রাজাকার, আল বদর, আল শামসদের কখনো ক্ষমা করিনি, করতে পারি না। আমার সন্তানকে আমি বলতে পারবো- আমরা যেমন জাতির জনকের হত্যাকারী কুলাঙ্গারদের ফাসিতে ঝুলিয়েছি, ঠিক তেমনি জাতির বেইমান রাজাকার গোলাম আযম, নিজামী, সাইদী, সাকা, বাচ্চু গংদেরও ফাঁসিতে ঝুলানোর ব্যবস্থা করেছি। শুধু একটি কষ্টই আমার রইলো- আমার ইতিহাস পাঠের প্রথম শিক্ষক, আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা সেটা দেখে যেতে পারলেন না। 
আমার এখন আর দুইটি ইচ্ছাই আছে- আমি সবগুলোর ফাঁসি দেখে যেতে চাই, আর দেখতে চাই- পাকিস্তান আমাদের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা চাচ্ছে।

একটি আবোল তাবোল গল্প

কাহিনীর বিরতিঃ

সুমিত এই অনুভূতির সাথে পরিচিত। প্রায় এক যুগ আগে নীলার সাথে প্রথম যখন দেখা হয়েছিলো, ঠিক এই রকম অনুভূতি হয়েছিলো। কিছুক্ষণ স্থির, কিছুক্ষণ অস্থির। একটু পর পর আয়নাতে নিজের চেহারা দেখা। হঠাৎ করেই পোশাকের দিকে নজর দেওয়া! ঘন ঘন মোবাইল ফোনে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের বাটন চাপা। প্রায় সারাক্ষণই নীলার সাথে কথা বলার আকুলতা! নীলাকে তো সুমিত ভালবেসেছিলো, কিন্তু শুচিস্মিতাকে? তাহলে কি সে এখন শুচিস্মিতাকে ভালোবেসে ফেলেছে? তা কি করে হয়? নীলা যে এখন সুমিতের ঘরনী! সুমিত যে এখনো নীলাকে ভালোবাসে। তবে কেনো শুচিস্মিতাকে দেখলে সুমিতের হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়! কেনো বার বার ওর সাথে সময় কাটাতে, ফোনে কথা বলতে ভালো লাগে! কেনই বা শুচিস্মিতার কথা ভাবতে সুমিতের এতো ভালো লাগে!

কাহিনীর শুরুঃ

নতুন চাকরীতে নতুন জায়গায় এসে শুচিস্মিতার সাথে সুমিতের পরিচয়। প্রথম দিনেই শুচিস্মিতার প্রাণবন্ত কথা আর অদম্য উচ্ছ্বলতায় সুমিত খুব মজাই পেয়েছিলো!

চাকরী হচ্ছে এখন সোনার হরিন! এই সোনার হরিণই যেনো খুব সহজে সব সময় সুমিতের হাতে ধরা দিয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে এই পর্যন্ত এক দিনও ওকে বেকার থাকতে হয় নি। একটার পর একটা চাকরী করেছে, ছেড়েছে, আবার নতুন একটা পেয়েছেও। এরই মধ্যে নীলাকে সাত পাঁকে বেঁধে ফেলেছে। ভালোবাসার বিয়ে। আজকালকার বাবা মায়েরা খুব আধুনিক। ছেলে মেয়েদের ভালোবাসার বিয়েতে কোনো অমত থাকেনা। কিন্তু সুমিতের গ্রামে বাস করা বাবা মা মন মানসিকতায় অনেকটাই সেকেলে। আধুনিক, উচ্চ শিক্ষিত, নম্র এবং সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তাই নীলার সুযোগ হয় নি ওর শ্বশুর-শ্বাশুড়ির পদধূলি মাথায় নেবার!

নীলার কথাঃ

সুমিতের সাথে আমার সম্পর্ক প্রায় এক যুগের। চঞ্চল, ছটফটে কিন্তু দুষ্টু যে ছেলেটাকে প্রথম দিন দেখেই আমি মাতোয়ারা হয়ে গিয়েছিলাম, তাকে যে আমি আজীবনের জন্য পাবো সেটা চিন্তাই করিনি! তবু যেনো সব কীভাবে হয়ে গেলো! একটা ছোট্ট সংসার হলো আমাদের, টোনাটুনির সংসার। আমি আর সুমিত, সুমিত আর আমি।

স্বপ্নের মতো কেটে গেলো একটি বছর। সুমিতের অফিস থেকে বিকেলে আসার পরে একসাথে ঘুরতে যাওয়া, বাইরে কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া- সবকিছুই দ্রুত চলে যেতে লাগলো। নতুন সংসারটিকে সাজিয়ে নিতে আমাদেরও যেনো কিছুটা সময় দিতে চাইলেন বিধাতা। এরই মাঝে একদিন আমাতে নতুন প্রাণের অস্তিত্ব টের পেলাম আমি। অদ্ভুত এক শিহরণে শিহরিত হলাম। প্রবল উচ্ছ্বাসে সুমিতকে খবরটা দিতে গিয়েই জানলাম সুমিতকে গ্রামে যেতে হবে ওর বাবার মুখাগ্নি করতে।

সুমিতকে আমি একা ছাড়তে চাইলাম না। সব কাজ শেষ করে যখন আমরা ফিরে এলাম, আমাতে আর প্রাণের অস্তিত্ব পেলাম না! সুমিত কি খুব কষ্ট পেয়েছিলো সেদিন? জানি না! শুধু এটুকু জানি, আমি খুব কেঁদেছিলাম, অঝোর ধারায়।

পার্শ্ব কাহিনীঃ

এর কিছুদিন পরেই আমেরিকার খুব বড় একটি ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার সুযোগ পেলো নীলা। সুমিত রইলো দেশে, একাকী। সময় কেটে গেলো দ্রুত। দুই বছর পর বিমান বন্দরে যখন নীলাকে সুমিত দেখতে পেলো, সুমিতের মনে হলো অসম্ভব রকমের বেশি ভালোবাসে সে এই মেয়েটিকে। খুব অবাক হলো, দুইটি বছর নীলাকে ছাড়া সে কীভাবে কাটিয়েছে!

এবার মনে হয় সময় হলো টোনাটুনির সংসারে এক নতুন অতিথি আসার। কিন্তু ঈশ্বর বোধহয় এবারো মুখ তুলে চাইলেন না! রক্তে ভেসে যাওয়া মেঝে থেকে সুমিত যখন নীলাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলো, সুমিতের কাছে তখন যেনো সমস্ত পৃথিবীটাই দুলে উঠছিলো।

সুমিত নীলাকে ঠিকই যমরাজের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এলো, এরপর এভাবেই বেশ কয়েকটা বছর কেটে গেলো। টোনাটুনির সংসারে নতুন কেউ না এলেও, ভালোবাসার যেনো কমতি নেই!

রোচিষ্ণুর কথাঃ

আমি রোচিষ্ণু। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন এই লোকটা আবার কোত্থেকে উদয় হলো! তাই প্রথমেই আপনাদের সমস্ত কৌতুহল মিটাচ্ছি। আর কিছুদিনের মধ্যেই শুচিস্মিতার সাথে আমার বিয়ে হতে যাচ্ছে। শুচিস্মিতাকে এখনো ভুলে যাননি তো আপনারা? হ্যা, শুচিস্মিতা হচ্ছে সুমিতের কলিগ। শুচিস্মিতার কাছেই আমি সুমিতের অনেক গল্প শুনেছি। অল্প ক’দিনের ভিতরেই সুমিত শুচিস্মিতার খুব কাছে চলে এসেছে। আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী  এই ব্যাপারটিতে আমার চেয়েও বেশি চিন্তিত হয়ে পরেছে! আমি কিন্তু কখনই চিন্তিত হই নি। কারণ, সেই ছোটবেলা থেকেই আমি শুচিস্মিতাকে চিনি। ও আমাকে বলেছে, সে সুমিতকে খুব ভালো একজন বন্ধুর মতোই দেখে। এখনো সুমিতকে আমার কথা বলে নি, কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই আমার সাথে দেখা করিয়ে দিয়ে সুমিতকে চমকে দিবে!

আমি শুচিস্মিতাকে অনেক, অ-নে-ক ভালোবাসি, ঠিক তেমনি অনেক, অ-নে-ক বিশ্বাসও করি।

বিরতির পরঃ

“সুমিত, আগামীকাল সন্ধ্যায় নান্দোসে আসতে পারবে? তোমাকে একটি কথা বলবো, ধরো তোমার জন্য এক সারপ্রাইজ!” সুমিত যেনো এই দিনের জন্যই অপেক্ষা করছিলো। দ্বিধা দ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে সিদ্ধান্ত নিলো শুচিস্মিতাকে সে ‘না’ বলবে না!

ভালোবাসা ব্যাপারটাই এরকম। যারা বলে থাকে জীবনে একবারই মাত্র ভালোবাসা হয়, সুমিত সেই দলের নয়। যে কারণে গুইনেভারা রাজা আর্থারকে ভালোবাসলেও, ল্যান্সেলটের প্রেমে পড়তে কোনো সমস্যাই হয় না। আবার বিয়ে করলেও যে অন্যের সাথে ভালোবাসা আর হবে না, সুমিত সেটাও বিশ্বাস করে না। এমনকি এটাকে সে অনৈতিকও ভাবে না! কারণ, রাঁধা তাহলে বিবাহিতা হয়ে কীভাবে কৃষ্ণের সাথে প্রেম করে? লাইলী মজনু বা রোমিও জুলিয়েটের কাহিনী আর বর্তমান যুগে খাটে না। “ভালোবাসা এমন কোনো বিষয় নয়, শুধু একজনে সীমাবদ্ধ থাকবে,” নিজেকে বোঝালো সুমিত। সে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেললো।

একটু কি খারাপ লাগলো সুমিতের? নীলার জন্য কেমন যেনো মনটা টন করে উঠলো না! “সেটা একসাথে অনেক দিন থাকার জন্য। নীলার প্রতি একটা মায়া পড়ে গেছে না! কিন্তু সেটা শুধুই মায়া, ভালোবাসা নয়”, আবারো নিজেকে নিজেই উত্তর দিলো সুমিত।

সবচেয়ে মোক্ষম উত্তরটা একটু পরেই নিজেকে শোনালো সুমিত, “আমি বাবা হতে চাই”।

কাহিনীর শেষের আগেঃ

অফিসে আজ শুচিস্মিতা আসে নি, ছুটি নিয়েছে। সুমিত ওকে না দেখতে পেয়েই ফোন দিয়েছিলো। শুচিস্মিতা জানিয়েছে, এক বিশেষ কাজে ব্যস্ত। বিকেলে দেখা করার কথাও মনে করিয়ে দিলো। সুমিত স্মিত হেসে বললো, “মনে আছে!”

অফিস থেকেই সুমিত সোজা ধানমণ্ডির নান্দোসে গিয়ে শুচিস্মিতার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। অপেক্ষার প্রহর যেনো দীর্ঘ! সহজে শেষ হতে চায় না! বার বার ঘড়ির দিকে আর প্রবেশ পথের দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ করেই যখন শুচিস্মিতাকে দেখলো, কোথায় যেনো নীলার ছায়াটাও দেখতে পেলো সুমিত! শুচিস্মিতা একা আসেনি, সাথে একজন সুদর্শন যুবকও আছে!

“এই হচ্ছে রোচিষ্ণু, সামনের সপ্তাহেই আমাদের বিয়ে হতে যাচ্ছে। আর এটাই হচ্ছে তোমার জন্য সারপ্রাইজ……” আরো কি কি যেনো বলছিলো শুচিস্মিতা, কিন্তু কোনো কথাই মনে হয় শুনতে পাচ্ছিলো না সুমিত!

নীলার শেষ কথাঃ

আজকে আমার খুব আনন্দের দিন! কয়েকদিন আগেই আমার একটু সন্দেহ হচ্ছিল। আজ সকালে সুমিত অফিসে চলে গেলে আমি কনফার্ম হবার জন্য হাসপাতালে গেলাম। যা ভেবেছিলাম! আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে বলছে আমি ‘মা’ হতে যাচ্ছি! নিজের কানকে যেনো বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এতো বছর পর!

এতদিন নিশ্চিত না হয়ে সুমিতকে জানাতে চাচ্ছিলাম না। ভাবলাম অফিস থেকে এলে চমকে দিবো ওকে। কিন্তু আজ এই আনন্দের দিনেই ও খুব দেরী করে বাসায় এলো। দরজা খুলে ওর দিকে তাকাতেই কেমন যেনো বিধ্বস্ত লাগলো ওকে। ওকে সুস্থির হবার সময় দিলাম।

“তোমার বাবুর নাম তুমি কি রাখবে?” রহস্য করে সুমিতকে বললাম। সুমিত মনে হয় আমার কথাটা বুঝতে পারলো না, ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি হাসিমুখে আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টটা ওর হাতে ধরিয়ে দিলাম। পড়তে পড়তে দেখতে পেলাম, ও কাঁদছে। আনন্দের কান্না! হঠাৎ করেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলো, “আমি তোমায় ভালোবাসি”।

আর যেনো কি বলতে লাগলো! ওহ হ্যা, মনে পড়েছে! আর বার বার বলতে লাগলো ‘আমায় ক্ষমা করো’।

সুমিত আসলেই খুব বোকা! কোন দিনে কি কথা বলতে হবে, এখনো শিখলো না! অফিসে কাজের চাপ এতো! যাহোক, কাঁদুক ও, কাঁদুক। বাবা হওয়ার সম্ভাবনায় কাঁদুক। ওর কান্না দেখতে আমার খুব ভালো লাগছে! মনে হচ্ছে আমিও কাঁদি, মা হওয়ার সম্ভাবনায় কাঁদি আর বলি, “সুমিত, আমি তোমায় খুব ভালোবাসি”।

 

দুই বিদেশী বন্ধুর গল্প এবং যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি

আজ সকালে বিটিভিতে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারী বিদেশী বন্ধুদের সম্মামনা অনুষ্ঠান সরাসরি দেখছিলাম। তাঁদেরকে দেখতে দেখতে কেমন যেন আবেগী হয়ে যাচ্ছিলাম। তাঁদেরকেও আমার বাঙ্গালী, বাংলাদেশি আর মুক্তিযোদ্ধা মনে হচ্ছিল। আসলেই তো তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা, তাই না?

একজনকে দেখে আমার খুব কৌতুহল হলো আর আরেকজনের নাম শুনে শ্রদ্ধায় মন ভরে উঠলো। প্রথমেই দ্বিতীয়জনের কথাই বলি।

(১)

তাঁর নাম ডব্লিউ এ এস অডারল্যান্ড, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী ব্যক্তি। সাধারণ জ্ঞানে যাদের অগাধ দখল, তারা সকলেই এই তথ্যটি জানেন। সমস্যা হয় তখনই, যখন এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হয়। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই অকুতোভয় বীর মানুষটিকে নিয়ে আমাদের দেশে কোনো উপন্যাস লেখা হয় নি, তৈরী করা হয় নি কোনো টেলিফিল্ম বা চলচ্চিত্র (২০০১ সালের ২ জুন বিটিভিতে অডারল্যান্ডকে নিয়ে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল রচিত একটি নাটক দেখানো হয়। নাটকটিতে অডারল্যান্ডের নাম ভূমিকায় ছিলেন খায়রুল আলম সবুজ)।  

ইন্টারনেটেও সার্চ দিয়ে যুদ্ধকালীন তাঁর কাজের খুব বিস্তারিত বর্ননা পাওয়া যায় না। আসলেই আমরা হতভাগা। এরপরও যা পাওয়া গেছে, তা দিয়েই এই লেখা।

তিনি ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন। তখন ইউরোপ জুড়ে চলছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৭ বছর বয়সে পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে কর্মজীবন শুরু  করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি বাটা জুতা কোম্পানিতে যোগ দেন। ১৯৩৬ সালে অডারল্যান্ড যোগ দেন রয়াল নেদারল্যান্ড সামরিক বাহিনীতে। ১৯৪০ সালে নেদারল্যান্ড সেনাবাহিনীর হয়ে কমান্ডো গেরিলা হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেন। হিটলারের নাৎসী বাহিনী নেদারল্যান্ড দখলের পর তিনি নাৎসী বাহিনীর হাতে বন্দী হন। কিন্তু অডারল্যান্ড নাৎসী বাহিনীর কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। নাৎসী কারাগার থেকে পালিয়ে এসে তিনি নেদারল্যান্ড আন্ডারগ্রাউন্ড মুভমেন্টের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেন। জার্মান ভাষায় দক্ষতা তাঁকে গোয়েন্দার ভূমিকায় সাহায্য করে। তিনি জার্মান সামরিক সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। তাদের কাছ থেকে গোপন সংবাদ উদ্ধার করে মিত্রশক্তির সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছে দিতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে অডারল্যান্ড ফিরে যান বাটা কোম্পানির চাকুরিতে।

W.A.S. Ouderland-BP উইলিয়াম এ এস অডারল্যান্ড বিপি

ষাটের দশকে অডারল্যান্ডের কর্মস্থল ছিল সিঙ্গাপুরে। সেখান থেকে বদলী হয়ে ঢাকায় এলেন ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে। প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন টঙ্গীতে অবস্থিত বাটা ফ্যাক্টরিতে । ১৯৭০ সালের শেষের দিকেই তিনি বাংলাদেশে বাটার ম্যানেজার নিযুক্ত হন। স্ত্রী মারিয়া অডারল্যান্ডকে নিয়ে থাকতেন ৯৬, গুলশান এভিনিউ এর বাড়িটিতে। ১৯৭১ এর ৭ মার্চের পর থেকে ঢাকার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থার কারণে তিনি তাঁর স্ত্রীকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেন। এরপর পুরো যুদ্ধের সময় তিনি একাই বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। তবে যুদ্ধের শেষের দিকে গুলশানের বাড়িতে নিরাপদ বোধ না করায় ১ ডিসেম্বর তারিখে  তিনি রেডক্রস ঘোষিত নিরপেক্ষ এলাকা হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ( বর্তমানে রূপসী বাংলা) গিয়ে ওঠেন।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ এই নিরীহ জনগোষ্ঠীর ওপর পাকবাহিনীর বর্বর হামলা অডারল্যান্ডের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বরং পাক বাহিনীর গণহত্যা অডারল্যান্ডকে যৌবনের প্রথমদিন গুলোতে ইউরোপে দেখা হিটলার এর নাৎসী বাহিনীর হত্যাযজ্ঞর কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে পড়ে মাত্র আধা ঘন্টায় নাৎসী বিমান বাহিনীর অপারেশনে নেদারল্যান্ডের রটেরডাম শহরের ৩০,০০০ নাগরিক নিহত হয়েছিল। মাতৃভূমির সেই বিষাদময় স্মৃতি তাঁর সৈনিক এবং মানবিক সত্ত্বাকে নাড়া দেয়। তাঁকে আবার যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যায় । তিনি সিদ্ধান্ত নেন এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করবেন। এবারের যুদ্ধ মাতৃভূমির জন্য নয়। অনেক দূরের ছোট্ট ও দরিদ্র একটি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যুদ্ধ। যুদ্ধ মানবতার জন্য। 

Ouderland with gun বন্দুকহাতে অডারল্যান্ড

বিদেশি নাগরিক হিসেবে এবং একটি বহুজাতিক কোম্পানির ম্যানেজার হিসেবে অডারল্যান্ডের পাকিস্তানি সেনাছাউনীতে সহজ প্রবেশাধিকার ছিল। তিনি এই সুবিধা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোয়েন্দাগিরির অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রথমে তিনি ২২ বালুচ রেজিমেন্টের অধিনায়ক লে. সুলতান নেওয়াজের সাথে অন্তরঙ্গতা গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে যাতায়াত শুরু করেন এবং আরও বেশি সংখ্যক সামরিক কর্তকর্তার সাথে পরিচিত হন। এক পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান, পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল নিয়াজি এবং সিভিল এ্যাফেয়ার্স এ্যাডভাইজার মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলির সাথে তাঁর হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক ব্যবহার করে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন।  এর ফলে কারফিউসহ যে কোন সময় তিনি যে কোন জায়গায় অবাধে যাতায়াতের অধিকার পান।

এভাবে অডারল্যান্ড পাকিস্তানি বাহিনীর অনেক গোপন পরিকল্পনার খবর সংগ্রহ করতেন। সে সব তথ্য  মুক্তিবাহিনীর কাছে সংগোপনে পৌঁছে দিতেন। এভাবেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তিনি অর্থনৈতিকভাবে এবং বাটা জুতাসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়েও মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের সাহায্য করেন। অডারল্যান্ড পাকিস্তানি সৈন্যদের হত্যাকান্ড ও অত্যাচারের অনেক ছবিও তোলেন। এসব ছবি তিনি আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় প্রেরণ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন। এক পর্যায়ে তিনি  মুক্তিবাহিনীর সাথে আরও সরাসরি জড়ালেন নিজেকে। তিনি মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন।

ঢাকায় অবস্থিত তৎকালীন অষ্ট্রেলিয়ান দূতাবাস তাঁর এ কাজে কোনো বাধা তো দেয়নি, বরং সাহায্য সহযোগিতাই করেছিলো। তাঁর সকল কাজের সঙ্গী ও সাহায্যকারী ছিলেন বাটার পার্সোনাল ম্যানেজার এ কে এম আব্দুল হাই। অডারল্যান্ড মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বপ্রকার সাহায্য করার জন্য বাটা কোম্পানির তদানীন্তন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, নুরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির খান, ডাঃ হাফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (কুসুম ডাক্তার), আমেরিকার নাগরিক মিঃ ট্রাকারকে নিয়ে একটি গোপন টীম গঠন করেছিলেন। এঁদের মধ্যে তিনি হুমায়ুন কবির খান ও আব্দুস সালামকে গেরিলা ট্রেনিং নেওয়ার জন্য ত্রিপুরার আগরতলায় পাঠান।

তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানীদের যুদ্ধ কৌশল ও পরিকল্পনা জেনে ২ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার, জেড ফোর্সের মেজর জিয়াউর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর কাছে পাঠাতেন। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করতেন তাঁর সহকর্মী এ কে এম আব্দুল হাই। অডারল্যান্ড নিজের ব্যক্তিগত পিস্তলটি বুলেটসহ যুদ্ধের কাজে দান করেছিলেন ২ নং সেক্টরের ১ নং প্লাটুন কমান্ডার এ কে এম জয়নুল আবেদীনকে। জয়নুল আবেদীনও পরে বীর প্রতীক উপাধি পেয়েছিলেন।

M A G Osmani with Ouderland এম এ জি ওসমানীর সাথে অডারল্যান্ড

বাটা কোম্পানিতে অডারল্যান্ডের আরেকজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন জনাব এম এ মালেক  । ২৭ মার্চ কারফিউ তুলে নেয়ার পর এম এ মালেক অডারল্যান্ডের সাথে দেখা করেন। অডারল্যান্ড তাঁকে সাবধানে থাকতে বলেন এবং শ্রমিকদের বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন। যুদ্ধের প্রথমদিকে মাস দুয়েক বাটা ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এম এ মালেক তখন গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এরপর ফ্যাক্টরি চালু হলে জুন মাসে আবার কাজে যোগ দেন। ফিরে এসে তিনি বুঝতে পারেন অডারল্যান্ড বাঙালিদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করছেন। এম এ মালেক অডারল্যান্ডের সাথে টঙ্গীতে বাটা ফ্যাক্টরির পাশে টেলিফোন শিল্প সংস্থা  ভবনে স্থাপিত সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন দপ্তরে একাধিকবার গিয়েছিলেন। তাঁরা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, শ্রমিকের অভাব সহ  যুদ্ধজনিত কারণে উদ্ভুত ফ্যাক্টরি চালনায় অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোচনার অজুহাতে সেখানে যান। সেখানে প্রবেশের সময় অডারল্যান্ড গাড়িতে অস্ট্রেলিয়ান পতাকা ব্যবহার করেছিলেন। কথাপ্রসঙ্গে সেনা অফিসারদের কাছ থেকে তিনি তাঁদের অপারেশন সহ নানা ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার করেন। এম এ মালেকসহ কয়েকজন বিশ্বস্ত সহকর্মী তুরাগ নদীর ওপারে উলুখোলা নামক জায়গায় অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এসব তথ্য পৌঁছে দেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জুতা এবং অন্যান্য সামগ্রীও গোপনে নৌকা যোগে পাঠানো হয়। ১ ডিসেম্বর অডারল্যান্ড এম এ মালেককে অনুরোধ করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের একটি পতাকা সংগ্রহ করে দিতে। এম এ মালেক চক বাজার থেকে একটি পতাকা সংগ্রহ করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে তিনি ইন্টারকন্টিন্টোল হোটেলে অডারল্যান্ডকে পতাকাটি পৌঁছে দিয়েছিলেন।

অডারল্যান্ড নিজের জীবন বিপন্ন করে কেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জড়ালেন সে সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যা পাওয়া যায় একটি চিঠিতে যেটি তিনি ফরিদি নামক একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লিখেছিলেন ১৯৯৭ সালে। 

Dear Mr Faridi

Thank you for your letter of January 24, 1997 advising your effort to gather and preserve for the future generations of Bangladesh, relevant and vital information and facts about the struggle of the Bengali people for Freedom and independence commencing in 1971.

As one who was intimately involved in this struggle.  I am writing to give you the information you requested.  Firstly concerning myself and then to share with you some recollections of the 1971 struggle. I was born on December 1917 in Amsterdam.  Holland while Europe was in the grip of the third year of the First World War.  I was conscripted for National service in 1936 shortly after I had commenced my employment with the Bata Shoe Company.  Shortly before my mother land was invaded by Germany, I was called up to serve as a sergeant in the Dutch Royal Signals Corp. IN the face of the might of Adolf Hitler’s German Junta, equipped with sophisticated Tank and other massive weapons my platoon of 36 men then were simply armed with short rifles and twelve rounds of ammunitions each. As we went out to face this enemy, flying overhead was the huge fleet of Germen warplanes headed for Rotterdam where, in the space of half an hour, 30,000 innocent Dutch citizens died as result of their massive air attack. Following this blitzkrieg of Rotterdam the Germen Junta issued an ultimatum to the other cities of Holland, Belgium and France.  Within week the Dutch, Belgium and the France people were under the domination of Germen Junta.

Having escape from the POW camp after short internment, I joined the Dutch underground assistance movement.  As I spoke fluent Germen and several Dutch dialects. I befriended the germen high command and was thus able to help the Dutch underground movement as well as the allied forces with the vital information.  Therefore, when the event of March 1971 started with Tanks of Pakistani forces rolling in to Dhaka, I was reliving my experience of my younger days in Europe.  I could fully appreciate and predicament of the Bengali people and this motivated me to spring in to action on their behalf. As a result of indiscriminate and cruel actions of this invading Pakistani Junta, thousands of Bengali died in the ensuing week.  I felt that someone had made the world aware of what was happening since I was able to

move freely.  I was able to photograph the atrocities committed by Pakistanis against the innocent people which including young children.  I was able to pass these photos to the world press to high light the plight of the Bengali people.

Deeply touched and move by the almost unbearable sufferings and atrocities I witness of the cruel and oppressive occupying force.  I secretly began Guerrilla movement with the brave Bengalis at Bata Tongi and all around sectors 1 and 2. In addition, and as an expatriate CEO of an international company, I had the company of the occupying Pakistani high command. This enables me to help the Bengali freedom fighters.  I trained and worked with in relation to their Guerilla activities.  All these action were taken as a result of my deep love and affection I felt for the Bengali people.

There is much more I could say in details but it is near impossible because I am now retired and almost blind.

I have enclosed an album of Photograph cataloguing the atrocities of the occupying Pakistani army and the untold suffering of the Bengali people. Also include are photos of some of the brave freedom fighters whom I consider as my sons.

I hope this will be some help to your worthwhile endeavor and I wish you every success.

Your sincerely

 

W. A S Ouderland

Perth, Australia

22 February 1997

 

অডারল্যান্ড যখন এ চিঠি লেখেন তখন তিনি অসুস্থ এবং প্রায় অন্ধ হয়ে গেছেন। তাই আরও বিস্তারিত লিখতে পারেননি। এর আগে তাঁর ইচ্ছা থাকলেও অভিজ্ঞতাগুলো লেখা হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর অডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত এখানে বসবাস করেন। দুঃখজনক যে এই দীর্ঘ সময় তাঁর কাছে গিয়ে অভিজ্ঞতাগুলো কেউ লিপিবদ্ধ করেছে বলে জানা যায় না। তারপর তিনি শারিরীক অসুস্থতার কারণে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং অস্ট্রেলিয়ার পার্থ নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

২০০০ সালের নভেম্বর মাসে সিডনী থেকে অজয় দাশগুপ্ত একটি কলাম লেখেন দৈনিক প্রথম আলোতে। তিনি অডারল্যান্ডের স্ত্রী মারিয়া অডারল্যান্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে লেখেন, অডারল্যান্ড তখনও থাকতেন বাংলাদেশের ভাবনায় ব্যকুল। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশ সম্পর্কে কোন লেখা পেলেই চোখের সামনে মেলে ধরতেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক হত্যাকান্ড এমনকি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় তিনি বিক্ষুব্ধ হতেন। মারিয়া জানান, তাঁর জন্য এটাই ছিল স্বাভাবিক, কারণ তিনি স্বচক্ষে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন, নিজে যুদ্ধ করেছেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তিনি নিজের ছেলের মত দেখতেন। অজয় দাশগুপ্ত তাঁর কলামে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছেন,

“অকুতোভয় এই বীর মুক্তিযোদ্ধা একাত্তরে আমাদের হয়ে শুধু যুদ্ধ করেননি, এখনও তাঁর পরিচয়ে সে স্মৃতি বহন করে চলেছেন। তাঁর প্যাডে দেখেছি ডাব্লিউ এ এস অডারল্যান্ড বি. পি. লেখা। এই যে বীর প্রতীক (বি. পি.) খেতাবটি, নিজের নামের সাথে তার সংযুক্ত বজায় রেখে ‘তিনি আমাদের লোক’ এই পরিচয় তুলে ধরেছেন আজীবন।”

মারিয়া জানিয়েছিলেন, অডারল্যান্ড তাঁকে ও তাঁদের কন্যাকে বলতেন,বাংলাদেশ আমাদের ভালবাসা। পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি আবেগের এই ধারাটা অব্যাহত রেখো।

২০০০ সালে অডারল্যান্ডের ৮৩ তম জন্মদিবস উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাঁকে পুস্পস্তবক পাঠানো হয়। এর আগে একটি ই-গ্রুপ খুলে আউডারল্যান্ড সম্পর্কে তথ্যাদি সংগ্রহের জন্য একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল। এই ই-গ্রুপের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই অডারল্যান্ডকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। সেসব শুভেচ্ছা বার্তা এক সাথ করে তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী মারিয়ার কাছ থেকে জানা যায়, শুভেচ্ছা বার্তাগুলো অডারল্যান্ডকে পড়ে শোনালে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। এটি ছিল অডারল্যান্ডের শেষ জন্মদিন। 

জানা যায় অডারল্যান্ড ১৯৭৫ এর পরে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার তাঁর আবেদনটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেননি। ফলে এটি  ফাইলচাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালিরা ই-নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অডারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য কয়েক হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এ সব স্বাক্ষর সহ তাঁরা অডারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য একটি আবেদন জমা দেন বাংলাদেশ সরকারের কাছে। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই অডারল্যান্ড মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অডারল্যান্ডকে “বীর প্রতীক” পদক গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি। দীর্ঘদিন হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগার পর ২০০১ সালের ১৮ মে তারিখে তিনি ৮৪ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে মৃত্যুবরণ করেন। অডারল্যান্ডের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্ত্রী’র কাছে শোকবার্তা পাঠান। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদও একটি পৃথক শোকবার্তা পাঠিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মির্জা শামসুজ্জামান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেন। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে আউডারল্যান্ডের কফিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শণ করা হয়। পার্থে বসবাসরত প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা আউডারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

অডারল্যান্ডের মৃত্যুর পর সাবেক ছাত্র নেতা ও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী কামরুল আহসান খান এর উদ্যোগে ক্যানবেরায় অডারল্যান্ড মেমোরিয়াল কমিটি গঠন করা হয়। অডারল্যান্ডের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাই কমিশন তাঁর নামে একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেছে। কামরুল আহসান খানের নিরলস প্রচেষ্টায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ২০১০ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সামনের রাস্তাটি অডারল্যান্ডের নামে নামকরণ করেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রাস্তাটির নামকরণের ফলক উন্মোচন করেন। এ অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার জাস্টিন লি, সেক্টর কমান্ডারগণ এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। 

Ouderland উইলিয়াম এ এস অডারল্যান্ড

(২)

এবার আসি প্রথম জনের গল্পে। নাম তাঁর সৈয়দ আসিফ শাহকার। অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় সুইডেনের নাগরিক, বর্তমানে হাইকোর্টের জাজ হিসেবে। তিনি যখন পদক নিতে ডায়াসে যান, করতালিটা একটু বেশিই মনে হচ্ছিল। দ্রুত নেটের দ্বারস্থ হলাম।

কি পেলাম নেটে?

সুইডেনের বিচারক শাহকার ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটিতে ন্যাপ ছাত্রনেতা ছিলেন, ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানী। কিন্তু বাংলাদেশে, সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিলেন সেই ছাত্রনেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় শাহকার বাঙালিদের পক্ষে সহকর্মীদের মাঝে প্রচারপত্র বিতরণ করেছিলেন, যে কারণে তাকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো। বাংলাদেশের সমর্থন করায় তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল, ঢুকানো হয়েছিলো জেলেও। তার ভাষায়, “সেই সময় আমাদেরকে গাদ্দার (বিশ্বাস ঘাতক) হিসেবে দেখা হতো। আমার মধ্যে সব সময় একটা ভয় কাজ করতো, ভয় শুধু সরকারের কারণে নয়, বরং এও মনে হতো জনগণ যেকোনো সময় আমাদের হত্যা করতে পারে।” 

Syed Asif Shahkar সৈয়দ আসিফ শাহকার

১৪ ডিসেম্বর বিডিনিউজ২৪ ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, “এখানে আসতে পেরে আমি অভিভূত। আমি মনে করি এটা আমার জীবনের একটি নতুন অধ্যায়। আমি পর্যটক হিসেবে বাংলাদেশে আসতে চাই নি। আমি আসতে চেয়েছি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। গতকাল আমাকে সেভাবেই গ্রহণ করা হয়েছে।  

সৈয়দ আসিফ শাহকারের ফেসবুক একাউন্ট এখানে

(৩)

বিজয়ের আগের রাতে এই দুই বীর মানুষকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি যারা আন্দোলন করে, নেতৃত্ব দিয়ে, কলম দিয়ে, অর্থ দিয়ে, সরাসরি যুদ্ধ করে এদেশকে স্বাধীন করেছেন। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের অসাধারণ নেতৃত্বকে আর একরাশ ঘৃণা শুধু তাদের জন্যই যারা এই বাংলার স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, ঘৃণা সেইসব জামায়াত শিবিরের প্রতি, যাদের জন্য আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারিয়েছি। আজকের দিনে একটিই দাবী তাই, যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি চাই- এই মাসেই

 

 

 

তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতাঃ

১) উইলিয়াম এ এস অডারল্যান্ড বীর প্রতীকঃ ফজলে ইলাহী মাহমুদ শাহিন

২) বিজয় দিবসের জয়গাঁথায় এঁদের নামও উচ্চারিত হওয়া উচিতঃ আব্দুল গাফফার চৌধুরী

৩) একমাত্র বিদেশী বীর প্রতীক- বাঙ্গালীর গৌরবঃ সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

 

জন্মদিনের উপহার

২ ডিসেম্বর। সেদিনও ছিলো রবিবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যায়নরত এক যুবক তাঁর হোস্টেলের রুমে অস্থিরচিত্তে পায়চারি করছে। কিছুক্ষণ আগে খবর এসেছে তাঁর প্রথম সন্তান এই অদ্ভুত সুন্দর পৃথিবীর মুখ দেখেছে। সন্তানের জন্ম হয়েছে তাঁর নানা বাড়িতে, সে জায়গার নাম পটুয়াখালী। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলা শহর।

যুবকটি অস্থির হয়ে আছে তাঁর সন্তানের মুখ দেখার জন্য। কিন্তু সেই সময়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাবার জন্য তাঁর হাতে কোনো টাকা কড়ি নেই। না যেতে পারার অক্ষম আক্রোশে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে আর রুমের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে। এমন সময় তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর আগমন। বন্ধুটি সব শুনে পকেট থেকে এক বান্ডিল টাকা বের করে দিয়ে বললেন, “যা, সন্তানকে দেখে আয়!” বিস্ময়ে অভিভূত সেই যুবকটি বলে উঠলো, “দোস্ত! আমার ছেলের নাম রাখলাম তোর নামে!”

বন্ধুটির নাম ছিলো নিয়াজ রহিম, বর্তমানে রহিম আফরোজের ডিরেক্টর এবং আগোড়া চেইন সুপার স্টোরের চেয়ারম্যান। আর সেই সদ্য প্রসূত সন্তানের নামও রাখা হলো- নিয়াজ, নিয়াজ মাওলা- ব্লগিং জগতে যে ‘ডাক্তারের রোজনামচা’ নামে পরিচিত।

আজ ২ ডিসেম্বর। আজও রবিবার। শুভ জন্মদিন নিয়াজ, শুভ জন্মদিন ডাক্তারের রোজনামচা।

(১)

অবাক হচ্ছেন! নিজেকে নিজে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি বলে! তবে জেনে রাখুন, গতকাল রাত বারোটার পর থেকে মোবাইলের মেসেজ বক্সে, ফেসবুকের ইনবক্সে, ওয়ালে, এমনকি ব্লগের ক্ষুদে স্ট্যাটাসে এবং পোস্টে আমি সবার কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, মনে হয়েছে এতো এতো মানুষ যাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, তাকে যদি আমি শুভেচ্ছা না জানাই তাহলে খুব অশোভন দেখাবে!

(২)

এবারের জন্মদিনটা আমার কাছে একটু অন্যরকম। একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমাকে নিতে হয়েছে ঠিক এই মুহুর্তে। সবাই জানেন আমি ডাক্তার, নিউরোসার্জারীর ডাক্তার। মানুষের মাথা কাটাই আমার কাজ। ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর থেকেই আমার চাকরী এই নিউরোসার্জারী বিভাগেই। সেই থেকে এই- দীর্ঘ প্রায় সাত বছর কীভাবে যেনো নিউরোসার্জারীতেই কাটিয়ে দিলাম। মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে আজ রেজিষ্ট্রার পর্যন্ত হয়ে গেছি।

এক সপ্তাহ আগে আমি এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আমাকে আর নিউরোসার্জারীর ডাক্তার বলা যাবে না। ৩০ নভেম্বর থেকে আমি অফিসিয়ালী নিউরোসার্জারীর সাথে আর জড়িত নেই। কেনো, কি কারণে এই সিদ্ধান্ত সেই ব্যক্তিগত পাঁচালীতে আমি যাবো না, শুধু বলি- একজন রিসার্চার হিসেবে আমি এখন নিজেকে দেখতে চাই। আর তাই আইসিডিডিআর,বি – এর ভ্যাক্সিনেশন প্রজেক্টে আমি যোগদান করেছি। আমার জন্মদিনের দিন আমার ক্যারিয়ারেরও পুনর্জন্ম হলো বৈ কি!

young_researcher_of_the_year_2011_1_standard

(৩)

ফেসবুকে সুরঞ্জনা আপু কমেন্ট করেছেন আমার সাথে দেখা হলে একটা মাইরও মাটিতে পরবে না! সরি আপু, খুব তাড়াহুড়া করেই সিলেট থেকে ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে। আপনার সাথে দেখা হলো না! তবে এবার সিলেটে যখন বেড়াতে যাবো- আপনার বাসাতেই আস্তানা গাড়বো ঠিক করেছি।

শব্দপুঞ্জ অনুরোধ করেছে অন্তত একদিন দেওয়ালটা খোলার জন্য- সিরিয়াসলি চিন্তা ভাবনা করছি!

আজাদ কাশ্মীর ভাইয়ার লিঙ্ক ধরে এগিয়ে আমি অভিভূত। উদরাজী ভাইয়া তাঁর পোস্টের শেষে যে বাক্যটি লিখেছেন – আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেছি!

আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজ আগারওয়াল, পবিত্র রঞ্জন সাহা, ডাঃ অরূপ, অপাংক্তেয় আপু, হাসান মামা, হযরত বিনয় ভদ্র ভাইয়া, ডাঃ তমাল, রুবেল আহমেদ কুয়াশা, ডাঃ আদনীন মৌরিন, ডাঃ মনোয়ার হোসেন, মমিন মামা, অজানা পথিক, মাসুম আহমেদ ভাইয়া, মোহাম্মদ করিম, ডাঃ অনির্বান ঘোষ, ডঃ রানা চৌধুরী স্যার, রাজশ্রী চাকমা, শামীম কাওসার বাঁধন, ডাঃ তারজিয়া, আহাদ ভাইয়া, ডাঃ রাহাত সারোয়ার চৌধুরী, সাদি ফাইয়াজ, ডাঃ সাদেকুর রোমেল, খালিদ মোহাম্মদ বিন আতিক, সৈয়দ মোহাইমিনুর রাহাত, অমিতাভ নুর, অনিন্দ্য দাস অনিক, নাজমুল হাসান হীরক, হাসান আলী রুমান, আলীম আল রাজি, সাইফ আলম জিসান, আশিক, আরিফ, ডাঃ মুদাসসির, সেলিম ভাইয়া, ডাঃ সোহেলী সাত্তার আপু, জুনাপু, আযহার উল কারিম ভাই, জ ই মানিক, আকাশগঙ্গা পলাশ, জয় কবির ভাইয়া, রোদেলা নীল, সামসির মোঃ আব্দুল আজিজ ভাইয়া, মোঃ মারুফ, নায়লা আজিজ মিতা আপু, এন জি টুটুল, জাহাঙ্গীর আলম ভাইয়া, সাইফ সাইমুম, ডাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, ডাঃ অর্নব মাহমুদ, মামুন মোর্শেদ রাহাত, সালেকীন শাকিল, রাজীব রাসেল ভাইয়া, জাকির হোসেন ভাইয়া, আমিনুল করিম শাহাব, সেহেলি মোস্তফা, ডাঃ মাসুম খান, খায়রুল কবির মামা, প্রিথ্বিশ রায়, মাহমুদা সোনিয়া আপু। মোঃ মাশফিকুর রহমান, আমিন শিমুল, লুনা রুশদী আপু, জলরং আপু, বৃশ্চিক, মেঘ অদিতি আপু, নিশাচর বাহা উদ্দিন, নয়ন, নিঃসঙ্গ পৃথিবী, নুশেরা আপু, মাতরিয়শকা ভাইয়া, ফকির আব্দুল মালেক ভাইয়া, ছায়েদা আলী আপু, আফরোজা হক আপু, ছেলেবেলা, সাইক্লোন, গঙ্গা, নাইফা চৌধুরী অনামিকা আপুসহ আরো অনেকেই যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন- তাঁদের প্রত্যেককেই অসংখ্য ধন্যবাদ।

thank-you-smiley

(৪)

আজ এই কিছুক্ষণ আগে আমার জন্মদিনের উপহার পেয়েছি- বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের পক্ষ থেকে।

অভিনন্দন বাংলার দামাল ছেলেদের। 

Congratulation

একদিন পাখিবাড়ি

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই কবির য়াহমদ ভাইয়ার সাথে ফেসবুকে বার্তা বিনিময় হলো। শুক্রবার দিনটা কীভাবে কাটাবো- যখন বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হলাম, কবির ভাইয়া জানিয়ে দিলেন দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি এবং তারা পাখিবাড়ি যাবেন। আমি ইচ্ছে করলে এই তারাদের সাথে ঢুকে যেতে পারি। “তারা” কারা জিজ্ঞেস করা মাত্র ফেসবুকের “ঘুরাফেরা A to Z”  নামে একটি পেজ দেখিয়ে দিলেন। বুঝতে পারলাম “তারা” হচ্ছে ঘোরাফেরার কাঙ্গাল, যৌবনের রক্তে উদ্দীপিত একদল তরুন। আর পাখিবাড়ি?

“পাখিবাড়ি” লিখে আন্তর্জালে খোঁজ নিতে গিয়ে অবাক হয়ে গেলাম! এ যে পাখিবাড়ির ছড়াছড়ি! প্রথম যে পাখি বাড়িটি পেলাম, তা হচ্ছে দুদু মিয়ার পাখিবাড়ি। সিলেট নগরী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে দক্ষিন সুরমার পশ্চিম শ্রীরামপুর গ্রামে এই বাড়ির অবস্থান। এই পাখি বাড়ি ঘুরে না কি দেখা গেছে, বাঁশ ঝাড়ে বাঁধা বাসায় ডিমে তা দিচ্ছে সাদা বক, আছে লাল বক, শালিক, ঝাটিয়া বক, মণিহার বক, মাছারাঙ্গা, দোয়েলসহ অনেক প্রজাতির পাখি। পানকৌড়ি ধ্যান ধরে বসে আছে গাছের মগডালে, আরো আছে সরালি, বালিহাঁস, পাতিহাঁস। (কৃতজ্ঞতাঃ শাহ দিদার আলম নবেল, সিলেট, বাংলাদেশ প্রতিদিন)

Bird House

আরেকটি পাখি বাড়ি পেলাম মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে টেংরা ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামে। সেখানে আরক আলীর বাড়িটিকে স্থানীয়ভাবে বলা হয়ে থাকে “পাখি বাড়ি” এবং সেখানে সাদা বক ও পানকৌড়ি মিলিয়ে প্রায় ৮-১০ হাজার পাখি না কি বর্তমানে বাস করছে। (কৃতজ্ঞতাঃ এস মাহবুব

Bird House

আবার মৌলভীবাজার জেলারই বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সালদিগা গ্রামে আরো একটি পাখি বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে। এই বাড়ির মালিকের নাম বরহুম মিয়া। দেশের অন্যতম বৃহৎ হাকালুকি হাওরের পাশেই অবস্থান হওয়ার কারণে নানা প্রজাতির পাখি এখানে ভিড় জমায় বলে জানান বড়লেখার বন সংরক্ষক। (কৃতজ্ঞতাঃ মিলাদ জয়নুল, সালদিগা

এতো পাখি বাড়ির ভীড়ে আমরা তৈরী হলাম অন্য একটি পাখি বাড়ির উদ্দেশ্যে- সিলেটের সালুটিকরের ছালিয়া গ্রামের নুরুদ্দিনের পাখিবাড়ি।

যাত্রা হলো শুরুঃ

সিলেটে আমি নতুন। তাই যখন আমাকে বলা হলো আম্বরখানা ইষ্টার্ণ প্লাজা থেকে যাত্রা শুরু হবে, সেখানে পৌছাঁতেই আমি গন্ডগোল করে ফেলি। একেতো বাঙ্গালী স্বভাবমতো দেরী করে ফেলেছিলাম, তার উপরে জায়গাই চিনি না! কবির ভাইয়া অবশেষে জনারণ্যে খাবি খেতে থাকা আমাকে খুঁজে বের করলেন, ততক্ষণে দুই দল সিএনজি নিয়ে রওয়ানা হয়ে গেছে। আমাদের সাথে সিএনজিতে ছিলেন কবির ভাইয়া, স্বস্ত্রীক বেলাল ভাইয়া, রাজীব রাসেল, ফজলুর রহমান নুমান ভাইয়া। বেলাল ভাইয়ার হাতে DSLR ক্যামেরা দেখে মনে মনে খুব আশ্বস্ত হলাম!

পথে আমাকে সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গা চিনিয়ে দেবার মহান দায়িত্ব নিলেন সজীব রাসেল। আমাদের যাত্রা শুরু হলো এয়ারপোর্ট রোড ধরে। যাত্রা পথের প্রথমেই ছিলো হাতের বাম দিকে লাকাতুরা চা বাগান এবং ডান দিকে মালনীছড়া চা বাগান। মালনীছড়া চা বাগান হচ্ছে উপমহাদেশের প্রথম চা বাগান। ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের হাত ধরে ১৮৫৪ সালে (সিলেটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লেখা আছে ১৮৪৯ সালে) এ বাগান প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও ১৮৫৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়। প্রায় ১৫০০ একর জায়গা জুড়ে এই চা বাগানে বর্তমানে চায়ের পাশাপাশি কমলা লেবু এবং রাবারের চাষ করা হয়।

Malnichora Tea Garden

একটি কুড়ি দুটি পাতার রূপ দেখা শেষ হতে না হতেই চোখের সামনে চলে এলো সিলেট ক্যাডেট কলেজ। এরপরেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের সুবিশাল এলাকা দেখতে দেখতে হঠাৎই হাতের ডানপাশে দেখতে পেলাম এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড, এর একটু আগেই আছে সিলেট ক্লাব। ঠিক করলাম, একেক শুক্রবার একেকটা জায়গা ঘুরতে হবে, দেখতে হবে, সিলেটের ঘুরাফেরার এ টু জেড শেষ করতে হবে।

Adventure World

আরো কিছুদূর যাওয়ার পর ডান দিকে চলে যাওয়া একটি রাস্তা দেখিয়ে কবির ভাইয়া জানিয়ে দিলেন, সেই রাস্তা ধরে এগোলে রাতারগুল যাওয়া যাবে, যা বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট বা জলাবন। মনে মনে ঠিক করলাম বাংলাদেশের পৃথিবী বিখ্যাত  ম্যানগ্রোভ বন এখন পর্যন্ত না দেখতে পারলেও, দেশের একমাত্র জলাবন সিলেট থাকতে থাকতেই দেখতে হবে। www.travelobd.com-  এর সৌজন্যে পাওয়া রাতারগুলের ছবিটি দেখে আমার এই সিদ্ধান্ত আরো পোক্ত হলো বৈ কি!

Ratargul

এবার হঠাৎ করে রাস্তার পাশের এক আলিশান বাড়ির সামনে সিএনজি থেমে গেলো। চালক আমাদেরকে বাড়িটি দেখিয়ে বললেন- এটাই সেই নুরুদ্দিনের বিখ্যাত পাখি বাড়ি!

ইতিহাসঃ

আমি পেশায় ডাক্তার হলেও ইতিহাস আমার খুব প্রিয়। নুরুদ্দিনের পাখি বাড়ির ইতিহাস জানতে গিয়ে শুনলাম, নুরুদ্দিন বিশ্বাস করতেন “বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে”, তাই নীল আকাশের অধিবাসী পাখিদেরও তাঁর কাছে আকাশে মুক্ত দেখতেই ভালো লাগতো, বদ্ধ খাঁচাতে নয়। তিনি যখনই বাজারে যেতেন, পাখি কিনতেন। কখনো এক জোড়া, কখনো পাঁচ জোড়া, কখনোবা আরো বেশি। কিনে নিজ বাড়িতে এনে তিনি সেগুলোকে মুক্ত করে দিতেন।

Bird House Of Nuruddin, Sylhet

পাখিরা কি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জানে? হয়তোবা! তা না হলে কিছু পাখি ঘুরে ফিরে তাঁর বাড়িতেই আবার আসবে কেনো? মুক্ত হওয়া কিছু পাখি তাঁর তিন একর বাড়ির গাছগাছালিতে থেকে যেত। দেখাদেখি আরো পাখি আসতে থাকে, একসময় তা অনেক হয়ে যায়। পাখি চুরি ঠেকাতে পাহারা বসান নুরুদ্দিন।  এভাবেই নুরুদ্দিনের সাধারণ বাড়ি এক সময় হয়ে যায় “নুরুদ্দিনের পাখি বাড়ী”।

নুরুদ্দিন সাহেব আজ বেঁচে নেই। তাঁর সুযোগ্য পুত্র এমদাদুল হকও বাবার নীতিকে অনুসরণ করে চলেছেন আজো।

ঘুরাফেরা এ টু জেডঃ

পাখি বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় চারটা বেজে যায়। বাড়ির ভিতরে ঢুকে চুপসেই গেলাম। বাড়ির মূল ফটকের ডান পাশেই কিছু জায়গা ঘেরাও করা দেখলাম, জানলাম এক সময় এখানে হরিন থাকতো। এরপরেই দোতলা বাড়ি। বাড়ির সামনেই একটি পুকুর আছে। পাখিদের বসার জন্য প্রায় পুরো পুকুর জুড়ে বাঁশ গেড়ে দেওয়া আছে, আছে শান বাঁধানো ঘাট। আর পুরো বাড়ি জুড়ে গাছ-গাছালি। কিন্তু পাখি কৈ?

কোনো পাখিই দেখতে না পেয়ে যখন হতাশ হয়ে যাচ্ছিলাম, তখনই বাড়ির লোকদের কাছে থেকে জানতে পারলাম আছরের নামাযের পর থেকেই পাখিরা আসা শুরু করে, এবং সন্ধ্যার দিকে আক্ষরিক অর্থেই পাখি বাড়িতে পরিণত হয়। আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম- আমরা মানে প্রায় বিশজনের এক বিশাল বহর। সবাই ঘোরাফেরা এ টু জেড এর সদস্য।

কারো একজনের উল্লাস ধ্বনিতে সচকিত হয়ে দেখি দূর থেকে একটি বক জাতীয় পাখি এসে বাড়িটির একটি গাছের ডালে বসলো। এরপর একটি, দুইটি করে, হঠাৎ করেই শুরু হলো ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসা! এ যেনো এক অসাধারণ দৃশ্য! বর্ণনা দেবার ভাষা আমার নেই, সেই চেষ্টাও এখন করবো না, বরঞ্চ কিছু ছবি দেখানোর চেষ্টা করাই ভালো।

ছবির আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ

পাখি বাড়িতে যাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাঃ কবির য়াহমদ ভাইয়া (উনি শুক্রবার আমাকে ফেবুতে না জানালে, আমার যাওয়াই হতো না)।

ভ্রমণটা খুব আনন্দদায়ক হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতাঃ বিনয় দা, রাজীব রাসেল, সৈয়দ রাসেল, বেলাল ভাই, ফজলূর রহমান নুমান ভাই, কাজী ওহিদ, মেসবাহউদ্দিন সোহেল, একুশ তাপাদের, বিষন্ন বেদুইন, পাপলু বাঙ্গালি, জাফরুল জনি, নিষিদ্ধ থারটিন, কুয়াশাসহ সেদিন যারা গিয়েছিলেন।

‘একদিন পাখিবাড়ি’ নামের জন্য কৃতজ্ঞতাঃ ইমন যুবায়ের ভাইয়া (তাঁর একদিন… সিরিজের মতোই এই নামকরণ)।

সবশেষে নিচে যে ছবিগুলো দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর জন্য বিশাল রকমের কৃতজ্ঞতাঃ বেলাল আহমেদ ভাইয়া (উনি আমার তিনটি অসাধারণ পোট্রেট তুলেছেন, আমি বিমুগ্ধ!)

বেলাল আহমেদ ভাইয়ার তোলা পাখিবাড়ির কিছু ছবিঃ

Bird House of Nuruddin, Sylhet

 

Bird

 

Birds

 

Birds

 

Birds

 

Niaz