আমার নীল পদ্মগুলি

তুমি আর নেই সেই তুমি,
জানি না, জানি না, কেনো এমন হয়!”—

শচীন কর্তার এই গানটি আমি যদি আমার স্ত্রীর সামনে গাই, নির্ঘাত কেলেঙ্কারি ঘটনা ঘটে যাবে! আর যদি চতুর্মাত্রিক নিয়ে গাই?

 (১)

অনেকদিন পর আজ চতুরে এলাম। পোস্টগুলো পড়তে পড়তে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করলো। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম- কী বোর্ডে আঙ্গুল রাখতে গিয়ে একটু কি কেঁপে উঠলো?

গতকাল রাতে জ ই মানিকের সাথে মুঠোফোনে পাক্কা ৫৮ মিনিট কথা বললাম। ফোন করেছিল মানিক- মধ্য রাতের আগে। মানিকের সাথে কথা বলতে বলতে খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি চতুর্মাত্রিকের নিন্দা করছি! কী ধরনের নিন্দা করেছি, সেটা আমি বলবো না, তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি- কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া সারমেয় সমাচারের মতো কোনো নিন্দা নয়! বাকীটুকু তো মানিক জানে! আশা করছি সে এ ব্যাপারে কলম বন্ধ রাখবে  ।

রাতে ঘুমাতে গিয়ে চিন্তা করছিলাম- আমি মানিককে যা বলেছি, তা কি আমার মনের কথা? তখন উত্তর পাই নি। আজ রাতে এসে নেট খুলে যখন অনেকদিন পর চতুরে লগ ইন করলাম, বুঝতে পারলাম- মানিককে বলা আমার কথাগুলো মনের নয়!

 (২)

আমি নিয়াজের ডাক্তারের রোজনামচা হয়ে উঠার জন্য চতুর্মাত্রিকই একমাত্র দায়ী- এই ব্যাপারটা আমার কোনোভাবেই অস্বীকার করার জো নেই। এই চতুর্মাত্রিক থেকে আমি কি পাইনি? ডয়েচে ভেলের সেরা বাংলা ব্লগ, সরলরেখা- বক্ররেখা থেকে শুরু করে অনেক অসাধারণ এবং নমস্য ব্লগারদের ভালোবাসা– কোনো কিছু বাদ যায় নি। একটা সময় চতুর্মাত্রিকই ছিলো আমার একমাত্র বিচরণক্ষেত্র। আমার স্ত্রী কপট রেগে বলতো- ল্যাপটপ এবং চতুর্মাত্রিক হচ্ছে তার দুই সতিন।

এরপর হঠাৎ করেই আমি অনিয়মিত হয়ে উঠলাম। নাহ- ব্যস্ততার জন্য নয়। বরং, স্বীকার করতে কুন্ঠা নেই, কিছুটা অভিমানের জন্য। ধর্মীয় পোস্টের কারণেই হয়তোবা প্রথম বিরাগ শুরু হয়েছিলো। এরপর কিছু প্রিয় এবং সেই সময়ের এক্টিভ কিছু ব্লগারের প্রতি ব্যক্তি আক্রমন এবং সেটার ব্যাপারে চতুর কর্তৃপক্ষের নিরবতা (প্লিজ, এই ব্যাপারটি নিয়ে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করবেন না!)- আমাকে আরো চতুর বিরাগী করে তুলেছিলো। অনেকবার ভেবেছিলাম চতুর থেকে একেবারেই বিদায় নিবো- কিন্তু কিছু ব্লগারের নিস্বার্থ ভালোবাসাযুক্ত আবদারে মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে পোস্ট দিয়েছিলাম।

অনিয়মিতভাবে যখন পোস্ট দিতাম, দেখতে পেতাম অনেক নতুন চতুরকে। যাদের লেখার জন্য আগে উন্মুখ হয়ে থাকতাম, তাদেরকে নিয়মিতভাবে অনিয়মিত দেখলাম। নতুনদেরকে চিনার বা বোঝার অবসরটুকু অবশ্য পেতাম না! এভাবেই একসময় চেনা চতুর্মাত্রিক কেমন যেনো অচেনা হয়ে উঠলো!

 (৩)

কিছুদিন আগে শূণ্য আরণ্যক ভাইয়া, ফেবুতে আমাকে একটি জিনিস ট্যাগ করেছিলো। আমি এই ট্যাগ করার বিষয়টি প্রথম জানতে পারি একুয়া রেজিয়ার কাছ থেকে। এরপর ব্যস্ততার মধ্যেও ফেবুতে ঢুকে ট্যাগের বিষয় বস্তুটা দেখে খুব কষ্ট লাগলো। নাহ, বিষয় বস্তুর জন্য কষ্ট লাগেনি, কষ্ট লেগেছে এই ভেবে যে – আরণ্যক ভাইয়া কেনো এই বিষয়টিতে আমাকে ট্যাগ করেছে? (বিষয় বস্তুটা আমি আগেই অন্য একজন ব্লগার মারফত জেনেছিলাম, এবং এই ব্যাপারে আমার অভিমতটাও কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে জানে)।

আমি ফেবুতে রেসপন্স করিনি, কিন্তু মনে হয় কেউ যদি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সুড়ঙ্গের ক্ষুদে স্টাটাসে দেখে- তাহলে বুঝে নিবে আমার প্রতিক্রিয়া। যা হোক, সেই ট্যাগিংটাও চতুরে উঁকি মারা থেকে আমাকে বিরত রেখেছিলো বেশ কিছুদিন। আমি যখন গত রাতে মানিকের সাথে কথা বলছিলাম, এই ব্যাপারটাই মনে হয় আমাকে বেশি পীড়া বা যন্ত্রনা দিচ্ছিলো। কিন্তু আজ অনেকদিন পরে চতুরে লগ ইন করে——-

 (৪)

মানুষ না কি তার প্রথম ভালোবাসাকে কখনো ভুলতে পারে না। হিমুর এক বইয়ে পাঁচটি নীল পদ্ম থিওরীও এক সময় পড়েছিলাম। আজ খুব অস্থির হয়ে আবিষ্কার করলাম- চতুরকে আমি বোধহয় পাঁচটি নীল পদ্মই দিয়ে ফেলেছি, তাই বোধহয় প্রথম ভালোবাসাকে আজো অস্বীকার করতে পারি নি!

আজ খুব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম – কি পরিমাণে আমি নুশেরা আপু, জলাপু, মেঘাপু, বাপী ভাইয়া, শাওন ভাইয়া, অনীক, আমিন শিমুল, শিপন ভাইয়া, করিম, সুরঞ্জনাপু, আরিশ, শব্দপুঞ্জ, একুয়া, নাঈফা আপু, অপাংক্তেয় আপু — আর নাম লিখতে চাই না, শেষ করা যাবে না- এঁদের লেখা মিস করি (এখানে উদরাজী ভাইয়ার নামটাও আমি লিখতে চেয়েছি, ফিরে আসুন এই নীড়ে) ।
আজ আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো আবিষ্কার করলাম- চতুর্মাত্রিককে আমি কি পরিমাণ বেশী ভালোবাসি!

ভালো থাকুক চতুর্মাত্রিক, ভালো থাকুক সকল চতুর।

 

শধুমাত্র ‘চতুর্মাত্রিক’-এর জন্যঃ আমার পঞ্চাশতম পোস্ট আর কিছু কথা

সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। দেখতে দেখতে চতুরে আজ আমার পঞ্চাশতম পোস্টের সময় এসে গেলো। কখনো ভাবি নি, এই আমি নিয়াজ, এত দ্রুত হাফ সেঞ্চুরীর মাইল ফলক ছুঁয়ে ফেলবো।

ব্লগিং-এ হাতে খড়ি আমার বেশী দিনের নয়। একদিন পেপারে মুক্তব্লগ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট দেখে প্রথম ব্লগ হিসেবে মুক্তব্লগে রেজিস্ট্রেশন করি, কিন্তু পোস্ট আর দেওয়া হয় না। এক সময় পোস্ট দেওয়া শুরু হলো, অন্যের পোস্ট পড়াও শুরু করলাম। এমনিভাবেই একদিন, নাম মনে নেই, এক পোস্টে অনেকগুলো বাংলা ব্লগের নাম দেখে অলস মূহুর্তে দেখতে দেখতে কখন যেনো চতুর্মাত্রিকে চোখ আটকে গেলো, টেরই পেলাম না।

২০১১ এর ২৯শে এপ্রিল চতুরে আমার প্রথম পোস্ট দেওয়া হলো-“বিশেষ এক দিন……”- আমার বাবাকে নিয়ে লেখা, পিতার মৃত্যুর দিনের বর্ণনা নিয়ে সন্তানের লেখা! Morbid ধরনের লেখা দিয়েই শুরু হলো আমার চতুরে পথচলা। প্রথম মন্তব্যটা পেলাম মামুন হক ভাইয়ার কাছ হতে। তাঁর মন্তব্যে হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। আবেগাপ্লুত হয়ে গেলাম নুশেরা আপু, প্রীতি রাহা আর জলাপুর অসাধারণ মন্তব্যে। চোখের জল বাধ মানলো না নাজমুল ভাইয়ের মন্তব্য পড়তে গিয়ে। আমার প্রথম পোস্টের এই পাঁচ মন্তব্যকারীকে আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা জানাচ্ছি আজ।

মামুন হক ভাইয়াকে, অনেকদিন হলো, আগের মতো পাই না, নুশেরা আপু কোথায় যে হারিয়ে গেলেন, জানতেই পারলাম না। অদিতি কবির আপুকে পেতে না পেতেই কখন যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, টেরই পেলাম না। অনীক ভাইয়ার মন্তব্যগুলো খুব ভালো লাগতো, ভালো লাগতো তার কবিতাগুলো। বহুদিন হলো তার দেখা পাই না। আরণ্যক ভাইয়া আর রোবোট ভাইয়াকে কালে ভদ্রে এখন দেখা যায়। তবু ভালো জলাপু, সুরঞ্জনা আপু, মেঘাপু-উনারা একেবারেই হারিয়ে যান নি। ব্লগে ঢুকে উনাদের নিক দেখলে মনটা খুব ভালো হয়ে যায়। যেমন ভালো হয়ে যায়, সাহাদাত উদরাজী ভাইয়ের রেসিপি দেখলে বা আমার পোস্টে মন্তব্য দেখলে। মানুষকে আপন করে নেবার এক অদ্ভুত ক্ষমতা উনার আছে, আমার কাছে তাই মনে হয়।

একজন ডাক্তার হিসেবে ব্লগে অন্য কোনো ডাক্তার দেখলে খুবই ভালো লাগে। শব্দপুঞ্জের ধারাবাহিক উপন্যাসটা আমি ঠিক মতো পড়তে না পারলেও, আমার প্রতিটি পোস্টে ওর মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকতাম। যেমন থাকতাম আরিশের মন্তব্যের জন্যও। দুই জনই হয়তোবা খুব ব্যস্ত এখন, খুব একটা দেখি না, তাদের অনুপস্থিতি দেখে বুক থেকে শুধু দীর্ঘশ্বাসই বেরিয়ে আসে। দারুচিনি লবঙ্গ আপু যে ডাক্তার, সে তথ্যটাই আমি জেনেছি অনেক পরে। আমার ব্লগে উনি খুব কমই আসেন, অপেক্ষায় থাকি আমি।

মাঝে একবার ধুমকেতুর মতো উদয় হলো আকাশগঙ্গা। সবাইকে মাতিয়ে দিয়ে সে নিজেই এখন অনিয়মিত। ছেলেটা বড্ড অভিমানী। কার প্রতি এতো অভিমান, পলাশ? আকাশগঙ্গার মতোই জুনাপুকে আর দেখা যায় না। এক সময় একুয়া রেজিয়া আপুর প্রাণবন্ত উপস্থিতি থাকলেও, এখন সেখানে শুধুই শূন্যতা। খুঁজে পাই না শাপলা আপুকে, ভেবে ভেবে বলি আপুকে। বাতিঘর ভাইয়াকে তবু মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। যেমন মাঝে মাঝে পাওয়া যায় তারার হাসি আপুকে আর জুলিয়ান সিদ্দীকি ভাইকে। উনাদের সব্বাইকে, সব্বাইকে খুব মিস করছি আমি। আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন-ফিরে আসুন এই নীড়ে, আমরা আছি আপনাদের অপেক্ষায়।

বাপী হাসান ভাইয়াকে অসংখ্য ধন্যবাদ, আমাকে খুব সুন্দর একটা নামে ডাকার জন্য-‘ডাকু’। নামটা সব সময় শোনার অপেক্ষায় থাকি, যেমন অপেক্ষায় থাকি আমীন শিমুল ভাইয়ার ন্যায়নিষ্ঠ মন্তব্যের জন্য। ভালো লাগে পাপতাড়ুয়া, আমিন, হালিম ভাই, মাহবুব আলী ভাই, মাতরিয়শকা, শাওন ভাই-এদের মন্তব্য এবং পোস্ট পড়তে। জোকস পড়তে চাইলে চলে যাই নয়ন ভাই আর ধৈবতের ব্লগে।অজানাকে জানতে চাইলে বা দেখতে চাইলে ছুটে চলে যাই মরুভূমির জলদস্যুর ব্লগে। এই চতুরেই পেয়েছি আব্দুস শাকুর স্যার আর সান্ত্বনা চ্যাটার্জীর মতো গুণীজনদের সাহচর্য। আরো অনেকেই আছেন, যাদের নাম হয়তোবা এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না, কিন্তু সব সময় তাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকি।

নাঈফা চৌধুরী অনামিকা আপুর মমতাপূর্ণ মন্তব্যগুলো পড়ে শুধু আমিই না, আমার সহধর্মিনী লিসাও খুব মিস করেন উনাকে। দেশে থাকেন না, নতুবা কবে যে উনার বাসায় আমরা দু’জন হাজির হয়ে যেতাম! অনামিকা আপু, আপনি কিন্তু আমার সব লেখাতে কমেন্ট করেন না, যা আমি ভীষনভাবেই চাই। শুধুমাত্র একজনকেই আমি দেখি যিনি সব সময়ে আমাদের মতো এই নবীশ আর নবীন লেখকদের প্রতিটি লেখায় অসম্ভব দরদ দিয়ে মন্তব্য করেন এবং উৎসাহ দিয়ে যান। তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় আর শ্রদ্ধার পাত্র নাজমুল হুদা ভাই। বয়সে উনি আমার বাবার সমান, কিন্তু মনের টানে হয়ে গেছেন ভাই, বন্ধু।আমার এই বন্ধুটির একটি কাজ আমার খুবই ভালো লাগে, লেখার ভুল ধরিয়ে দেওয়া।

ডাক্তার হিসেবে আমার বেশিরভাগ লেখা হয়ে যায় রোগী সম্পর্কিত ট্রাজেডীমূলক লেখা, যেমন, আমার মনটা খুব খারাপ, খু-উ-ব…………, একটি সাধারণ গল্প, নন্দিতা, এই লেখা তোমার জন্য……,আমি ‘বাবা’ ডাক শুনতে চাই……আমি ‘বাবা’ ডাকতে চাই, – আপনারা আমার অনুভূতিকে সম্মান দেখিয়েছেন, আমি খুব কৃতজ্ঞ। আমি গল্প তেমন লিখতে পারি না, তবুও, নিজের অজান্তেই কিছু গল্প নিজের কাছেই প্রিয় হয়ে গেছে, যেমন, এটি একটি গল্প, কোনো সত্যি কাহিনী নয়, অন্ধকার পথ, পিছনে বন্ধ দরজা । খুব ভালো লেগেছে যখন দেখেছি এই গল্পগুলো আপনাদেরও ভালো লেগেছে। মেডিকেল কলেজ জীবন নিয়ে যখন মেডিকেল কলেজের প্রথম দিন….. লিখি, আপনাদের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে এটাকে সিরিজ আকারে লিখে ফেলি, যেমনি লিখছি লিবিয়ার পথে পথে এবং ইতিহাসের পাতা থেকে। ইতিহাস নিয়ে গল্প নিজু হিবাকুশা লিখে আপনাদের ভালো লাগায় আমি খুব উৎসাহ পেয়েছি। বাবাকে নিয়ে অপুর ভাবনা, আদালত নামা আর মা দিবসে মাকে নিয়ে লেখা মা, আজ আমি ডাক্তার…-এ আপনাদের পরম মমতাপূর্ণ মন্তব্যে আমি আন্দোলিত হয়েছি। শিহরিত হয়েছি আমার ছবি ব্লগগুলোও আপনাদের ভালো লাগায়।চমকিত হয়েছি বিশেষজ্ঞ না হওয়া সত্ত্বেও মনের মানুষ নিয়ে লেখাটাতে আপনাদের আলোচনা করতে দেখে।

মন থেকে অংশ নিয়েছি বারোয়ারী লেখা ‘সরল রেখা-বক্র রেখায়’- লেখাটির একটি সফল পরিসমাপ্তির জন্য সেই আপনাদের কাছেই আমি দুই হাত জোড় করছি। মনে মনে ভীষন পুলকিত হয়েছি আমাকে নিয়ে আকাশগঙ্গার লেখা ‘ডাক্তার নিয়াজ, পলাশ (আকাশগঙ্গা), হাস্যময়ী এক রমনী আর নিষিদ্ধ কিছু কাহিনী!’-পড়ে। একুয়া রেজিয়ার ‘মেঘ হলে মন আর শ্রীকান্তের কিছু গান’, মামুন হকের ‘ভালোবাসতে আর ভালো লাগে না’, তানভীর আশিকের ছবি ব্লগ ‘রঙ’, অন্ধ আগন্তুকের ‘অসাধারণ কিছু শর্টফিল্ম ( প্রতিটির এন্ডলাইনে আপনাকে মুগ্ধ হতেই হবে ! )’, নেটপোকার ‘মধ্যযুগের মুসলিম সভ্যতার কালজয়ী নিদর্শন: ক্যালিগ্রাফি বা লিপিকলা’, সান্ত্বনা চ্যাটারের ‘বসুন্ধরার গান’, নুশেরা আপুর ‘গান-গল্পের চরিত্ররা’, অনীক ভাইয়ার ‘অহেতুক যা কিছু’, সুজন সুপান্থের ‘ও মা, তোমার আঁচলে বাইন্ধা রাখছি প্রাণ’-ইত্যাদি আরো অনেক লেখা পড়ে আমি হয়েছি বিমোহিত, সমৃদ্ধ হয়েছে আমার জ্ঞান ভান্ডার।

আমার আর কিছু বলার নেই, শুধু একটা কথাই বলতে চাই-আমি ভালোবাসার প্রচন্ড কাঙ্গাল এক ছেলে, আপনাদের কাছ হতে আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা যেনো থাকে চিরদিন, অবিরত। সবাইকে (যাদের নাম লিখতে পেরেছি, আর যাদের নাম অনিচ্ছাকৃ্ত কারণে এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না) ঈদের অগ্রীম শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

আবোল-তাবোল ভাবনা

(এই লেখাটি শুধুমাত্র ‘চতুর্মাত্রিক’-এর জন্য লেখা)

আমি গত এক সপ্তাহ যাবত একটু ব্যস্ত ছিলাম, বাসা বদল নিয়ে। আমার স্ত্রী নিপসম (NIPSOM)-এ MPH কোর্সে ভর্তি হয়েছে, তাই সিরাজগঞ্জ থেকে মালপত্র নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছে, এই ব্যস্ততার জন্য ব্লগেও লগিন করতে পারি নি, দৈনিক খবরের কাগজগুলোও পড়তে পারি নি। গতকাল থেকে ব্লগে একটু একটু উঁকি দিচ্ছি, আজ নেটে খবরের কাগজও পড়লাম। এই ক’দিনে অনেক কিছুই হয়ে গেছে!

(১)

৩০/০৬/২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে বিভক্তি ভোটে (পক্ষে ২৯১ ভোট, বিপক্ষে ১ ভোট) পাশ হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রচলিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হলো। মজার ব্যাপার হলো যাদের আন্দোলনের ফসল ছিলো এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার, তারাই এই ব্যবস্থা বাতিল করলো। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছে। দেশ কোনদিকে যাচ্ছে তা সময়ই বলে দিবে।

 রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে বহাল রাখা এই সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তুর সাথে যদিও সাংঘর্ষিক, আমার কাছে মনে হয়েছে বিশাল এক ভোট ব্যাংককে লক্ষ্য করেই তা সংবিধানে রাখা হয়েছে। আমি ঠিক বুঝতে পারছি না এটা ঠিক হলো কি না।
 খুব তাড়াতাড়ি সংশোধনী পাশ করা হলো। আমাদের দেশের আইন প্রনেতারা দেশের সংবিধান পরিবর্তন করলেন অথচ সংসদে প্রধান বিরোধী দলই ছিলো না, এমন কি এই পরিবর্তনে তাদের সমর্থনও ছিলো না। অনেকটা ৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের মতো হয়ে গেলো। ফলাফল খুব একটা ভালো হবে না বলেই মনে হচ্ছে।
 প্রধান বিরোধী দল যদি সংসদে গিয়ে এর প্রতিবাদ করতো (যদিও তাদের কথা শোনা হতো না), তাহলে রাজপথে তাদের আন্দোলনটা আরো জোরালো ভিত্তি পেতো।
 নিদেনপক্ষে গনভোটের আয়োজন করা যেতো। তাহলে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের নয়, আমরা আমাদের আম জনতার অভিমতটা জানতে পারতাম।

(২)

এবার আসি টোকাইদের প্রসঙ্গে! বর্তমানে টোকাই শব্দটি খুব জনপ্রিয় মনে হচ্ছে, বিশেষ করে সরকারী আমলা আর মন্ত্রীদের কাছে। তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি আহুত ৩ জুলাই-এর হরতালের উদ্দেশ্য আর একে সফল করার আহবান সম্বলিত অনেক লেখা পোস্ট করা হয়েছে।

 এই চুক্তি নিয়ে আমি আসলে তেমন কিছুই জানি না, হরতাল সফল করার জন্য প্রচারিত লিফলেটের তথ্যই আমার সম্বল (কৃতজ্ঞতাঃ হুনার মন্দ)।
 লিফলেটের কিছু অংশঃ

কী আছে চুক্তির কাঠামোতে (পিএসসি ২০০৮) তে যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী?

পিএসসি ২০০৮ এর অধীনে যে চুক্তি করা হয়েছে তা এখনও গোপন। তবে মুল দলিলের *১৫.৫.৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ যদি সমুদ্রের ১৭৫ মাইল দূরের গ্যাস ক্ষেত্র পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরিবহণ ব্যবস্থা (পাইপলাইন) স্থাপন করে তাহলেই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে পেট্রোবাংলা তার অংশের প্রফিট গ্যাস রাখার অধিকার প্রাপ্ত হবে, তবে তা কোনো মতেই মোট প্রাপ্ত গ্যাসের ২০% এর বেশী হবে না। উল্লেখ্য যে, পাইপলাইন তৈরি করতে বাংলাদেশের যে খরচ লাগবে তা কনকো ফিলিপসএর প্রাথমিক বিনিয়োগের তিনগুণ বেশি।

* ১৫.৫.১, ১৫.৫.৪, ১৫.৫.৫, ১৫.৬ ধারায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষে কন্ট্রাক্টর ১৫.৫.২ ধারায় বর্ণিত হিসাব অনুসারে কন্ট্রাক্টর চুক্তিকৃত এলাকায় উৎপাদিত যেকোন পরিমাণ মার্কেটেবল গ্যাস বাংলাদেশের অংশসহ এলএনজি বা তরলায়িত করে রফতানির অধিকার পাবে।

* ১৬ নং ধারায় বলা আছে, পাইপ লাইন নির্মাণ করার অধিকার তাদের থাকবে। প্রাকৃতিক গ্যাস কেবলমাত্র নয়। পেট্রোলিয়াম এর বিষয়টিও আছে। তার মানে তারা ধরে নিচ্ছে একসময় নির্দিষ্ট ব্লকে তেল পাওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশকে তার প্রাপ্য বা ক্রীত গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দায়-দায়িত্ব কোম্পানির থাকবে, এরকম কোন নিশ্চয়তা নেই।

চুক্তিটি যেহেতু এখনো প্রকাশ হয়নি, ধরে নিচ্ছি উপরের তথ্যগুলো সঠিক। সেক্ষেত্রে এই আন্দোলনের জোরালো ভিত্তি আছে।

 এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি সরকারের কাছে আহবান করেছে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য চুক্তিটি প্রকাশ করতে। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।
 হয়তো অপ্রাসংঙ্গিক, কিন্তু একটা কথা বলতে চাই-আমরা সমালোচনা করতে খুব ভালোবাসি, বাস্তব অবস্থা না বুঝেই। যখন মেডিকেলের ছাত্র ছিলাম, স্যারদের অনেক সিদ্ধান্ত মন থেকে মানতে পারতাম না, বিদ্রোহী হয়ে উঠতাম। এখন তাঁদের জায়গায় এসে বুঝি তাঁরা কতটা সঠিক ছিলেন।
 যদি জাতীয় কমিটির দাবী সঠিক হয়, ৩ জুলাই হরতাল সফল হোক এই কামনা করছি (অনির্বার্য কারণবশত আমি ৩ জুলাই-এর হরতালকে সমর্থন দিচ্ছি না)।

(৩)

এবারের প্রসঙ্গটি একটু ভিন্ন ধরনের। প্রসঙ্গঃ তায়েফ আহমেদ। আমি তাকে চিনি না, জানি না। একটি পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম সে চুয়েটের শিবিরের সভাপতি ছিলো। তার কাছে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিলো, সে একটি উত্তর দিয়েছে। কারো পছন্দ হয়েছে, কারো পছন্দ হয়নি।

 আমি ব্যক্তিগতভাবে জামায়াত-শিবিরের ঘোর বিরো্ধী। মনে প্রানে চাই এই সংগঠনটি যেনো বাংলার মাটি থেকে সমূলে উৎপাটিত হয়।
 আমার মনে হয়, চতুরের নীতিমালায় একটি নতুন অধ্যায় যোগ করা উচিৎ-‘জামায়াত-শিবির রাজনীতির সাথে যেকোনো ভাবে জীবনের যেকোনো সময় সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির জন্য এই ব্লগে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ’ অথবা ‘বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সংস্কৃতি, মুক্তিসংগ্রাম ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শকে আক্রমণ করে লেখা পোস্ট, মন্তব্য বা যে কোন কিছুর ব্যাপারে আমরা বড়োই অনমনীয়, ক্ষেত্রবিশেষে কঠোর। এমন নিদর্শন মডারেটরবৃন্দ যে কোন সময় অপসারণ করতে পারেন’- এখানেও জুড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। তাহলে হয়তো এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব।
 ব্লগের বর্তমান নীতিমালা মেনে সদস্য হওয়া কাউকে শিবিরের সভাপতি ছিলো এই কারণে ব্লগ থেকে বের হয়ে যেতে বলাটা আমার কাছে ভদ্রোচিত আচরণ মনে হয়নি (আমার এই মন্তব্য যেনো ভুল অর্থে ধরা না হয়, সেজন্য সবাইকে আমি বিশেষভাবে অনুরোধ করছি)।

(৪)

এই ক’দিনে আরেকটি উক্তি খুব তোলপাড় ফেলেছে-“ আমার চেয়ে বেশী দেশপ্রেমিক আর কেউ নেই”। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ভালোর পসরা’ লেখাটা আমি প্রথম বিডি নিউজে পড়ি।

 তাঁর সব কথার সাথে আমি একমত নই, তাঁর খোঁচা মেরে কথা বলার টোন বা আক্রমনাত্মক ভঙ্গিও আমার খুব ভালো লাগে নি। আমি আশা করেছিলাম তিনি ব্যর্থতার কথাও লিখবেন। লেখার বিষয়বস্তুতে খুব হতাশ হয়েছি।
 আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসলেই খুব দেশপ্রেমিক ব্যক্তি, দেশকে নিয়ে তিনি আসলেই চিন্তা করেন। আমাদের মনে হয় তাঁর সদিচ্ছার ব্যাপারটাকে আমাদের মেনে নেওয়া উচিৎ, তাঁর এই কথাটাকে রম্য না বানিয়ে ফেলি।
 নিদেনপক্ষে জনগনের সাথে সরাসরি এই interaction-টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাঁকে তো আমরাই absolute majority-দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছি, তাই না?

(৫)

এবার জয়ের খবর। খুব খুব খুব ভালো লাগছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপের প্রাক বাছাই পর্বে বড় জয় পেয়েছে, তাও আবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। অভিনন্দন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সকল সদস্যকে। আশা করছি লাহোরে গিয়েও একই ফলাফল দেখাবে বাংলার বীর সেনানীরা।

খুব কষ্ট পেয়েছি উইম্বলডন থেকে আমার খুব প্রিয় খেলোয়াড় রজার ফেদেরারের বিদায়ে।

(৬)

সবশেষে দুইটি লেখার প্রতি আমার অসম্ভব ভালো লাগা জানিয়ে এই আবোল তাবোল লেখার এখানেই পরিসমাপ্তি ঘটাচ্ছি।

 অনীক ভাইয়ের লেখা ‘তেল চুপচুপে কথা’
 নাজমুল ভাইয়ের লেখা ‘যদি বারন কর তবে গাহিব না’

ভালো থাকুন সবাই, সবসময়।

প্রসঙ্গঃ ব্লগে কি দেখতে চাইনা, কি পড়তে চাইনা – ১ম টুকরা

(এই লেখাটা চতুর্মাত্রিকে রোবোটের লেখা “ব্লগে কি দেখতে চাইনা, কি পড়তে চাইনা – ১ম টুকরা”–এর পরিপ্রেক্ষিতে লেখা)

কিছুক্ষন আগে রোবোটের লেখা “ব্লগে কি দেখতে চাইনা, কি পড়তে চাইনা – ১ম টুকরা”-লেখাটা পড়ে মন্তব্য লিখতে গিয়ে দেখলাম বিশাল বড় হয়ে যাচ্ছে, তাই ভাবলাম পোষ্ট আকারেই লিখি। প্রথমেই বলে নিই, আপনার পোষ্ট পড়ে ভালো লেগেছে।

আমি একজন ডাক্তার মানুষ (মানুষ শব্দটার প্রতি জোড় দিচ্ছি বেশী)। স্কুল – কলেজ লাইফে টুকটাক লেখালেখি করতাম (কলেজ ম্যাগা্জিন গুলোতে), কিন্তু মেডিকেলে ভর্তি হবার পর সময়াভাবে একেবারে চুপসে যাই। সত্যি কথা বলতে গেলে ব্লগিং শব্দটার সাথে আমার পরিচয় খুব কম দিনের।

বিভিন্নভাবে রোগীদের সাথে interaction-এর ঘটনাগুলো আমাকে খুব ভাবাতো, ভাবতাম এগুলো লিখে রাখি। আমাদের দেশে এমনিতেই ডাক্তারদের সম্পর্কে অনেক নেতীবাচক কথা বা ধারণা প্রচলিত আছে। আমি চেয়েছিলাম একজন ডাক্তারের চোখ দিয়ে রোগীদের সম্পর্কে আমরা কি ভাবি তা মানুষকে জানাতে। ডাক্তাররাও যে মানুষ, তাদেরও যে হৃদয় আছে, তা ফুটিয়ে তুলতে।তখনই আমার এক বন্ধু আমাকে ব্লগ লেখার পরামর্শ দিল।

সে আমাকে শুধুমাত্র মুক্তব্লগের কথা বলল, মজার ব্যপার হচ্ছে আমি তখন অন্য কোনো ব্লগের নামই জানতাম না। সেই মুক্তব্লগেই একজন ব্লগারের একটি পোষ্ট পড়ে অনেকগুলো বাংলা ব্লগের নাম জানতে পারি। এক অবসর মুহূর্তে প্রায় সবগুলোতে চোখ বোলাতে লাগলাম।

ব্লগ ওয়েবসাইটগুলোর সমালোচনা আমি করবো না, এই ব্যপারে আমি একেবারেই নবীন।শুধু এটুকু বলতে পারি (আমি যতদূর পড়েছি, সে থেকেই বলা), পোষ্টের চাইতে পোষ্ট সম্পর্কে মন্তব্যগুলোই বেশী আপত্তিকর থাকে। অধিকাংশ কথা-বার্তাই পোষ্টের মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যায়। আবেগের চাইতে যুক্তি থাকে কম, গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা তার চেয়েও কম।

আমি একবার এক প্রখ্যাত ব্লগারের এক রাজনৈ্তিক লেখার একটা সমালোচনামূলক লেখা লিখেছিলাম, জবাবে সে মুল বিষয়বস্তুর ধারে কাছে না গিয়ে বাংলাদেশের সকল ডাক্তারদের তুলোধুনো করে ফেলেছিলেন (যেহেতু আমি একজন ডাক্তার), শেষে লিখেছিলেন- তিনি আর সেই ব্লগে ঢুকবেন না বা লিখবেন না। ক’দিন পরেই আমি আবার তার নিক দেখতে পেয়েছিলাম।

একটা মজার ব্যাপার বলি, যে পোষ্টের জন্য (ব্লগে কি দেখতে চাইনা, কি পড়তে চাইনা – ১ম টুকরা) আমার এই লেখা, সেখানে রোবোট বলেছেন, ব্লগে তিনি গালি-গালাজ দেখতে চান না। পোষ্টটার মন্তব্যগুলোতে একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সহমত জানাতে গিয়ে কেউ কেউ সেই ব্যক্তিগত আক্রমনই করেছেন বা গালি-গালাজ দিয়েছেন। সত্যিই সেলুকাস! কি বিচিত্র এ ব্লগ জীবন!

তারপরও ব্লগ ভালো লাগে, খুব ভালো লাগে। আমি চতুরে ব্লগ লেখা শুরু করার পর থেকে ব্লগারদের কাছ থেকে যেরকম উৎসাহমূলক মন্তব্য পেয়েছি, তা আমার লেখার গতিকে আরো সচল করেছে। এক লেখার মন্তব্যে নুশেরা লিখেছিলেন, “জন্মমৃত্যুর মতো দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা চিকিৎসকরা খুব কাছ থেকে এবং খুব বেশি সংখ্যায় দেখেন। তবু অ্যাপ্রনের আড়ালে ডাক্তারও একজন ব্যক্তিমানুষ”। ভালো লেগেছিলো মানুষ হিসেবে স্বীকৃ্তি পাওয়ায়। একবার নাজমুল হুদা লিখেছিলেন, “আমার ৪ বছর বয়সের নাতনীকে নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে যেয়ে জানতে পারলাম যে ডাক্তার অসুস্থ, রোগী দেখবেন না। ফিরবার পথে আমার নাতনীর বিস্মিত মুখে প্রশ্ন ‘নানা, ডাক্তারদেরও অসুখ হয়?’” খুব মজা পেয়েছিলাম নাতনীর বিস্মিত প্রশ্ন পড়ে।আবার তিনিই (নাজমুল হুদা) খুব সুন্দরভাবে আমাকে দায়িত্ব সচেতন করেছেন, “ডাক্তার, আপনার লেখার হাত বেশ ভালো। আশা করি পেশার প্রতিও আপনি এমনই যত্নবান এবং আন্তরিক”। যেমন মামুন হক লিখেছেন, “যদিও আপনার লেখাগুলো পড়ে আমিও খুব কষ্ট পাই তবুও মানুষের জন্য আপনার এই অসীম দায়বদ্ধতা আর মমতা আসলেই মন ছুঁয়ে যায়”- রোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মমতা আমার আরো বেড়ে যায়। এমনিভাবে আরো অনেকের মন্তব্যে আমি আরো বেশী করে উদ্দীপ্ত হয়েছি-পেশাগত কাজে, লেখনীর ধারে।সবার কাছে আমি ভীষন কৃতজ্ঞ।

আমার কাছে ব্লগের উদ্দেশ্যই তাই। আমার ভালোলাগা আমি জানাবো, অপছন্দটা যুক্তিসহকারে বোঝাবো, অন্যদের কাছ থেকে জানবো, শিখবো, আমি যা জানি তা অন্যকে জানাবো—খুব সুন্দর একটা মিথস্ক্রীয়া।

ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়া হয়ে গেলো। আমি লিখতে বসেছিলাম রোবোটের পোষ্টের সাথে সহমত হয়ে, অথচ নিজের কাহিনী শোনাচ্ছি। রোবোট, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব সুন্দর এবং সময়োপযোগী একটা লেখার জন্য। অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী টুকরোর জন্য।

সবশেষে কেউ যদি কোনো ভাবে আমার কোনো লেখায় কষ্ট বা দুঃখ পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে তার কাছে দুঃখিত।