আমার নীল পদ্মগুলি

তুমি আর নেই সেই তুমি,
জানি না, জানি না, কেনো এমন হয়!”—

শচীন কর্তার এই গানটি আমি যদি আমার স্ত্রীর সামনে গাই, নির্ঘাত কেলেঙ্কারি ঘটনা ঘটে যাবে! আর যদি চতুর্মাত্রিক নিয়ে গাই?

 (১)

অনেকদিন পর আজ চতুরে এলাম। পোস্টগুলো পড়তে পড়তে কিছু একটা লিখতে ইচ্ছে করলো। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম- কী বোর্ডে আঙ্গুল রাখতে গিয়ে একটু কি কেঁপে উঠলো?

গতকাল রাতে জ ই মানিকের সাথে মুঠোফোনে পাক্কা ৫৮ মিনিট কথা বললাম। ফোন করেছিল মানিক- মধ্য রাতের আগে। মানিকের সাথে কথা বলতে বলতে খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি চতুর্মাত্রিকের নিন্দা করছি! কী ধরনের নিন্দা করেছি, সেটা আমি বলবো না, তবে এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি- কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া সারমেয় সমাচারের মতো কোনো নিন্দা নয়! বাকীটুকু তো মানিক জানে! আশা করছি সে এ ব্যাপারে কলম বন্ধ রাখবে  ।

রাতে ঘুমাতে গিয়ে চিন্তা করছিলাম- আমি মানিককে যা বলেছি, তা কি আমার মনের কথা? তখন উত্তর পাই নি। আজ রাতে এসে নেট খুলে যখন অনেকদিন পর চতুরে লগ ইন করলাম, বুঝতে পারলাম- মানিককে বলা আমার কথাগুলো মনের নয়!

 (২)

আমি নিয়াজের ডাক্তারের রোজনামচা হয়ে উঠার জন্য চতুর্মাত্রিকই একমাত্র দায়ী- এই ব্যাপারটা আমার কোনোভাবেই অস্বীকার করার জো নেই। এই চতুর্মাত্রিক থেকে আমি কি পাইনি? ডয়েচে ভেলের সেরা বাংলা ব্লগ, সরলরেখা- বক্ররেখা থেকে শুরু করে অনেক অসাধারণ এবং নমস্য ব্লগারদের ভালোবাসা– কোনো কিছু বাদ যায় নি। একটা সময় চতুর্মাত্রিকই ছিলো আমার একমাত্র বিচরণক্ষেত্র। আমার স্ত্রী কপট রেগে বলতো- ল্যাপটপ এবং চতুর্মাত্রিক হচ্ছে তার দুই সতিন।

এরপর হঠাৎ করেই আমি অনিয়মিত হয়ে উঠলাম। নাহ- ব্যস্ততার জন্য নয়। বরং, স্বীকার করতে কুন্ঠা নেই, কিছুটা অভিমানের জন্য। ধর্মীয় পোস্টের কারণেই হয়তোবা প্রথম বিরাগ শুরু হয়েছিলো। এরপর কিছু প্রিয় এবং সেই সময়ের এক্টিভ কিছু ব্লগারের প্রতি ব্যক্তি আক্রমন এবং সেটার ব্যাপারে চতুর কর্তৃপক্ষের নিরবতা (প্লিজ, এই ব্যাপারটি নিয়ে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করবেন না!)- আমাকে আরো চতুর বিরাগী করে তুলেছিলো। অনেকবার ভেবেছিলাম চতুর থেকে একেবারেই বিদায় নিবো- কিন্তু কিছু ব্লগারের নিস্বার্থ ভালোবাসাযুক্ত আবদারে মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে পোস্ট দিয়েছিলাম।

অনিয়মিতভাবে যখন পোস্ট দিতাম, দেখতে পেতাম অনেক নতুন চতুরকে। যাদের লেখার জন্য আগে উন্মুখ হয়ে থাকতাম, তাদেরকে নিয়মিতভাবে অনিয়মিত দেখলাম। নতুনদেরকে চিনার বা বোঝার অবসরটুকু অবশ্য পেতাম না! এভাবেই একসময় চেনা চতুর্মাত্রিক কেমন যেনো অচেনা হয়ে উঠলো!

 (৩)

কিছুদিন আগে শূণ্য আরণ্যক ভাইয়া, ফেবুতে আমাকে একটি জিনিস ট্যাগ করেছিলো। আমি এই ট্যাগ করার বিষয়টি প্রথম জানতে পারি একুয়া রেজিয়ার কাছ থেকে। এরপর ব্যস্ততার মধ্যেও ফেবুতে ঢুকে ট্যাগের বিষয় বস্তুটা দেখে খুব কষ্ট লাগলো। নাহ, বিষয় বস্তুর জন্য কষ্ট লাগেনি, কষ্ট লেগেছে এই ভেবে যে – আরণ্যক ভাইয়া কেনো এই বিষয়টিতে আমাকে ট্যাগ করেছে? (বিষয় বস্তুটা আমি আগেই অন্য একজন ব্লগার মারফত জেনেছিলাম, এবং এই ব্যাপারে আমার অভিমতটাও কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে জানে)।

আমি ফেবুতে রেসপন্স করিনি, কিন্তু মনে হয় কেউ যদি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সুড়ঙ্গের ক্ষুদে স্টাটাসে দেখে- তাহলে বুঝে নিবে আমার প্রতিক্রিয়া। যা হোক, সেই ট্যাগিংটাও চতুরে উঁকি মারা থেকে আমাকে বিরত রেখেছিলো বেশ কিছুদিন। আমি যখন গত রাতে মানিকের সাথে কথা বলছিলাম, এই ব্যাপারটাই মনে হয় আমাকে বেশি পীড়া বা যন্ত্রনা দিচ্ছিলো। কিন্তু আজ অনেকদিন পরে চতুরে লগ ইন করে——-

 (৪)

মানুষ না কি তার প্রথম ভালোবাসাকে কখনো ভুলতে পারে না। হিমুর এক বইয়ে পাঁচটি নীল পদ্ম থিওরীও এক সময় পড়েছিলাম। আজ খুব অস্থির হয়ে আবিষ্কার করলাম- চতুরকে আমি বোধহয় পাঁচটি নীল পদ্মই দিয়ে ফেলেছি, তাই বোধহয় প্রথম ভালোবাসাকে আজো অস্বীকার করতে পারি নি!

আজ খুব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম – কি পরিমাণে আমি নুশেরা আপু, জলাপু, মেঘাপু, বাপী ভাইয়া, শাওন ভাইয়া, অনীক, আমিন শিমুল, শিপন ভাইয়া, করিম, সুরঞ্জনাপু, আরিশ, শব্দপুঞ্জ, একুয়া, নাঈফা আপু, অপাংক্তেয় আপু — আর নাম লিখতে চাই না, শেষ করা যাবে না- এঁদের লেখা মিস করি (এখানে উদরাজী ভাইয়ার নামটাও আমি লিখতে চেয়েছি, ফিরে আসুন এই নীড়ে) ।
আজ আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো আবিষ্কার করলাম- চতুর্মাত্রিককে আমি কি পরিমাণ বেশী ভালোবাসি!

ভালো থাকুক চতুর্মাত্রিক, ভালো থাকুক সকল চতুর।

 

Advertisements

One thought on “আমার নীল পদ্মগুলি

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s