বইমেলা ডায়েরীঃ ১০/০২/২০১২ ও ১১/০২/২০১২ (মোড়ক উন্মোচন মিস!)

১০ তারিখ সকাল থেকেই আমি প্রস্তুত ঢাকায় আসার জন্য। আবদুর রাজ্জাক শিপন ভাইয়ার “সোনামুখী সুঁইয়ে রুপোলী সুতো” র মোড়ক উন্মোচন হবে বিকেল পাঁচটায় আর ১১ তারিখে হবে “চতুর্মাত্রিক” ব্লগ সংকলনের। তাই ঢাকায় আসার জন্য এতো অস্থির হয়ে ছিলাম।

বিধাতা অলক্ষ্যে মুচকি হাসছিলেন বোধহয়। হাসপাতাল থেকে বের হবার সময়ই এক রোগী আসলো – ২৮ বছরের সদ্য বিবাহিত যুবক। বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় রক্তক্ষরণ। আটকে গেলাম আমি, আর ভাবতে লাগলাম কেনো যে ডাক্তার হলাম! আবার গর্বও হতে লাগলো, ডাক্তার বলেইতো রোগীকে অন্য কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

১০ তারিখ সকালটা শুরু হয়েছিলো অবশ্য খুব ভালো একটা সুখবর দিয়ে। অন্যপ্রকাশ থেকে কমল ভাইয়া ফোন করে বললো, “সরলরেখা – বক্ররেখা” শেষ হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে প্রেস ব্যস্ত থাকায় এখনই ২য় মুদ্রণ বের করতে পারছে না। আমাদের কাছে যে কপিগুলো আছে সেখান থেকে কিছু বই যেনো ধার দেই! দিয়ে দিলাম কিছু বই ধার, আশা করছি ফেব্রুয়ারির ৩য় সপ্তাহে অন্যপ্রকাশ সুযোগ পাবে ২য় মুদ্রণের।

হাসপাতাল থেকে শেষ পর্যন্ত ২ টার সময় বের হলাম। সয়দাবাদ থেকে তিনটায় ট্রেনে উঠলাম। শুনতে পেলাম এই ট্রেনেই আইনমন্ত্রী ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে যাবে, তাই ট্রেন কোনো জায়গাতেই খুব একটা দেরী করছিলো না। তবুও পাঁচটার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছার আশা ছেড়েই দিলাম। এমন সময় আবদুল করিম ফোন করে বললো মোড়ক উন্মোচন হবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। আমি এয়ারপোর্টে এলাম ছয়টায়, সেখান থেকে আমার বাসায় যেতে যেতে সাতটা, বাসা থেকে মেলায় সাড়ে সাতটায়। গিয়ে দেখি ভাঙ্গা হাট!

নাজমুল ভাইয়া, সাহাদাত উদরাজী ভাইয়া আর ঈশান ভাইয়ার সাথে দেখা হলো। রকমারি.কমের সামনে করিমের সাথেও দেখা হলো। সেখান থেকে চতুর্মাত্রিক ব্লগ সংকলন একটা কিনলাম। আমি অবশ্য ভেবেছিলাম, যেহেতু আমার একটা লেখা সংকলনে প্রকাশ পেয়েছে, বোধহয় এক কপি ফ্রি পাবো!

কিছুক্ষন সেখানে আড্ডা দিয়ে চলে গেলাম অন্যপ্রকাশ স্টলে। সেখান থেকে লিটল ম্যাগ চত্বরে। দেখা হলো শব্দনীড়ের জাকির ভাইয়ার (ভালোবাসার দেয়াল) সাথে। তিনটি বই কিনলাম, ব্লগারস ফোরাম থেকে প্রকাশিত নীড় গল্পগুচ্ছ, নির্বাচিত বাংলা গদ্য কবিতা আর শব্দতরীর সর্বশেষ সংখ্যা। জাকির ভাইয়া আমাকে নিয়ে আবার অন্যপ্রকাশে গিয়ে সরলরেখা – বক্ররেখা কিনে স্টলের সামনে আমার অটোগ্রাফ চেয়ে বসলেন। আমি খুবই লাজুক ভঙ্গিতে আমার নামটা লিখে দিলাম!

আজ ১১ তারিখেও আমি দেরী করে ফেললাম। মেলায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় ছয়টা। ততক্ষনে “চতুর্মাত্রিক” ব্লগ সংকলনের মোড়ক উন্মোচন শেষ। কিন্তু দেখা হলো অনেকের সাথে। আকাশগঙ্গাকেই প্রথম দেখি, তারপর চোখে পড়ে ফয়সাল রাব্বিকে। পরিচিত হই ফ্রয়েডের অবচেতনার সাথে, ভেবেছিলাম বয়স্ক কেউ, দেখি নওজোয়ান! মেঘ অদিতি আপুর সামনে একুয়া রেজিয়াকে জিজ্ঞেস করছি মেঘ অদিতি আপু কোথায়! চা এবং টা খেতে গিয়ে পরিচয় হলো সাদা কালো এবং ধুসর (সুস্মিতা রেজা খান) এবং ত্রেয়া আপুর সাথে। সাকাধুর কাছ থেকে তার “পেজগি” নিলাম বিশেষ কমিশনে! কখন যে বিলাইদা ওরফে শাওন ভাইয়া এসে হাজির খেয়ালই করিনি!

মেলায় আবার ঢুকে আহমাদ আব্দুল হালিম ভাইকে দেখলাম অনেকগুলো বই হাতে নিয়ে ঘুরছে। নেওয়া হলো “ইরিডেনাস”, মেঘ অদিতি আপুর “মেঘ ডুমুরের ফুল” অটোগ্রাফসহ। অনেকক্ষন ধরে কথা হলো অনীক আন্দালিব আর ঝড়কন্যার সাথে। তারপর কে যে কোথায় একে একে চলে গেলো!

হাটতে হাঁটতে জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশনের সামনে রেজওয়ান তানিম ভাই , লিখন ভাই আর বাবুল হোসাইন ভাইয়ার সাথে দেখা, আবারো আড্ডা। আড্ডা শেষে শিপন ভাইয়ার বইটা কিনতে গিয়ে আবারো ঈশান ভাইয়া আর নাজমুল ভাইয়াকে পেয়ে গেলাম।

শুদ্ধস্বর থেকে “সোনামুখী সুঁইয়ে রুপোলী সুতো” কিনেই আমরা মেলা থেকে বের হয়ে এলাম। শেষ হলো আমার দুই দিনের মেলা ভ্রমন। বইমেলায় আবারো আসতে পারবো আশা করি ১৭ তারিখের পর, ততক্ষণ পর্যন্ত খোদা হাফেজ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s