সরল রেখা-বক্র রেখাঃ ১৭তম পর্ব


( সরলরেখা – বক্ররেখাঃ ৩য় পর্ব
সরলরেখা – বক্ররেখাঃ ৭ম পর্ব
সরলরেখা – বক্ররেখাঃ অন্যান্য লেখকদের লেখা বাকী পর্বগুলো

সরলরেখা – বক্ররেখা — এই বারোয়ারি উপন্যাসটি এবারের ২১শের বইমেলাতে অন্যপ্রকাশ থেকে বের হচ্ছে)

আজ শুক্রবার। বন্ধের দিনে মিলন ঘুম থেকে উঠতে সবসময় একটু দেরী করে। সপ্তাহে এই একটি দিনেই ও যতো ঘুমিয়ে নিতে পারে। কিন্তু আজ বেশীক্ষণ ঘুমাতে পারলো না। গতকাল রাতেই সে সিরাজের মায়ের কুলখানি শেষ করে ঢাকায় এসেছে, শরীর এবং মন দুটোই খুব ক্লান্ত, তারপরও খুব সকালেই ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে। রুমের জানালা দিয়ে সকালের মিষ্টি রোদ ওর গায়ে এসে পড়ছে। বিছানাতে আধশোয়া হয়েই সে গত কয়েকদিনের কথা চিন্তা করছে।

চারদিন আগে হঠাৎ করে যখন হাবিবের কাছ থেকে সিরাজের মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পায়, প্রথমে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলো। তারপর কোন কিছুই চিন্তা না করে দ্রুত চট্টগ্রামের দিকে রওয়ানা দেয়। সেখানে পৌঁছে সিরাজকে যতটা বিধ্বস্ত দেখবে ভেবেছিলো, তা না দেখে যেনো কিছুটা হতাশই হয়েছিলো। ভেবেছিলো পুরানো বন্ধুর এই বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়িয়ে নিকট অতীতের ছিন্ন সম্পর্কটাকে আবার জোড়া লাগাবে। সিরাজকে তার আন্তরিকই মনে হয়েছে, মনে হয়েছে পুরানো ইয়ার দোস্তকে কাছে পেয়ে সে খুবই উচ্ছ্বসিত, কিন্তু তাকে বা হাবিবকে সে কোনো কাজেই ডাকে নি। মাঝে মাঝে দেখা গেছে শামার পরামর্শ নিতে। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে, সিরাজকে নিয়ে আর হাবিবকে নিয়ে সে অনেক চিন্তা করার অবসর পেয়েছে। আর অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়েছে সেলিনার কাছ থেকে কিছু পুরানো ক্ষতের প্রলেপ।

মরা বাড়ির ভীড়ের মধ্যে যখন সেলিনা মিলনের কাছে এসে বলে ওর সাথে কিছু কথা আছে, মিলন একটু অবাকই হয়েছিলো। তারপরও একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে সে সেলিনার সাথে কথা বলতে এগিয়ে যায়।

মিলন ভাইয়া, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সেদিন যদি আপনি আমার সাথে ওরকম ব্যবহার না করতেন, আমি হয়তোবা আজকের এই আমি হতে পারতাম না। বুঝতে পারতাম না কিশোরী বয়সের সাময়িক আবেগের সাথে বাস্তব জীবনের কঠোরতার প্রভেদ। আপনার সেই চাবুকের কষাঘাতের মতো ‘না’ শব্দটিই যেনো আমাকে বাস্তবে নিয়ে এসেছে। প্রথম দিকে আপনাকে আমি অনেক ভুল বুঝেছি, ভীরু, কাপুরুষ ভেবেছি। কিন্তু কখনো বুঝতে চাই নি আপনার অবস্থাকে, মেনে নিতে পারি নি আমার জন্য, ফুপার অপমানজনক কথা শুনে আপনার অসহায়ভাবে বাসা থেকে চলে যাওয়াটাকে। মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলো আমাদের পবিত্র ভাই-বোনের মতো সম্পর্কটাকে বাইরের কিছু লোকের অযাচিত কালি লেপনে। আমি হয়ে গিয়েছিলাম বিধ্বস্ত, এলোমেলো এক কিশোরী, যে তখন জীবন সাগরে ভেসে থাকার জন্য খড়কুটোও আকড়ে ধরতে চেয়েছিলো। এখন মনে হয়, যা কিছু হয়েছে সব বুঝি সবার মঙ্গলের জন্যই। আজ শুধু একটা অনুরোধই করবো আপনাকে, পারবেন সেই আগের মতো আমাকে ছোটবোন হিসেবে দেখতে? আপনি, সিরাজ ভাইয়া আর ভাইয়া, আপনারা তিনজন আমাদের বাসায় খাবার খেতে বসবেন, ছোটবোন হিসেবে আমি আপনাদেরকে আমার পছন্দের খাবারগুলো রান্না করে খাওয়াবো-পারবেন ভাইয়া আমার এই স্বপ্নটাকে সত্যি করতে?

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে চোখের পানি মুছতে মুছতে যেনো সেলিনা মিশে গেল ভীড়ের মধ্যে, মিলন যেনো দাঁড়িয়ে রইলো হতবিহ্বল হয়ে স্থাণুর মতো। কিন্তু একইসাথে ওর মনে হলো, বুক থেকে যেনো এক বিশাল কষ্টের পাথর নেমে গেলো, অনেক দিনের একটা ক্ষতের উপর যেনো এক মায়ার, এক অন্যরকম বন্ধনের প্রলেপ পড়লো। বুক ভরা এক নিশ্বাস নিয়ে হেসে ফেললো মিলন, দূর থেকে দেখতে লাগলো অপসৃয়মান সেলিনাকে। মনটা ভরে উঠলো এক অনাবিল আনন্দে।

রুমমেটের ডাকাডাকিতে বর্তমানে এসে মিলন একটু হকচকিয়ে গেলো, তারপর ধাতস্থ হয়ে স্মিত হেসে বললো, “রুপম, তুই তো বাংলার ছাত্র, তাই না? রবীন্দ্রনাথের ‘অচল স্মৃতি’ কবিতাটি জানিস? আমার কিছু স্মৃতি অচল হয়ে গেছে”। রুপম মিলনের কথার মানে বুঝতে না পারলেও আগ্রহভরে আবৃত্তি করতে লাগলো-

“আমার হৃদয়ভূমি-মাঝখানে
জাগিয়া রয়েছে নিতি
অচল ধবল শৈল-সমান
একটি অচল স্মৃতি ।
প্রতিদিন ঘিরি ঘিরি
সে নীরব হিমগিরি
আমার দিবস আমার রজনী
আসিছে যেতেছে ফিরি………”

সাদা চাদরে আবৃত সুফিয়া খাতুনের বেডের পাশে চোখ-মুখ শুকনো করে কেমন স্থবির হয়ে বসে আছে সিরাজ। অনেক কিছুই ওর মনে আসছে, আবার চলেও যাচ্ছে। সেই ছোটবেলা থেকে এই আজ পর্যন্ত-সবকিছুই। সিরাজের বাবা অল্প বয়সে মারা যাবার পর সংসারের হাল ধরেন সুফিয়া খাতুন। গ্রামের বাড়িতে কীভাবে ছেলেকে বড় করে শহরের স্কুলে পড়িয়েছেন, তা একমাত্র তিনিই জানেন। ছেলে আস্তে আস্তে বড় হলো, পড়াশোনা না করে টেকনিক্যাল লাইনে চলে গেলো। সুফিয়া খাতুন না করেন নি, সংসারে কিছু অর্থের সমাগম হবে এই আশায়। সিরাজ যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো, গ্রাম থেকে এসে আর যেতে চাইলেন না তিনি। সিরাজ সুস্থ হয়ে একটা বুটিকের দোকানের ব্যবস্থা করে দেয় মা কে। মা-ছেলে যখন একসাথে থাকবে, তখনই সিরাজ জেলে যায়। সুফিয়া খাতুন ছেলেকে অসম্ভব ভালোবাসতেন, তাই ছেলের নেশা করা, বন্ধুদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া, সবকিছুতেই প্রথমে আপত্তি করলেও, পরে তা মেনে নিতেন। সিরাজও তার মাকে খুব ভালোবাসত। বাইরের দুনিয়াতে তার সমস্ত দস্যুপনা মায়ের কাছে এসে শেষ হয়ে যেতো। সেই মায়ের হঠাৎ মৃত্যু যেনো সিরাজকে আক্ষরিক অর্থেই কিছুক্ষণের জন্য স্থবির করে দিলো।

শামা যখন ক্লিনিকে এসে সিরাজকে এভাবে দেখে, তখনই সিরাজ নিজেকে সামলে নেয়। ঠিক করে ওর কষ্টটাকে ও কাউকে বুঝতে দিবে না, ওর মায়ের শেষ কাজ ও নিজের হাতেই সব করবে। ঢাকা থেকে মিলন ছুটে আসে, হাবিবও আসে ওকে সঙ্গ দিতে। সবার সাথেই সে পুরানো দিনের মতোই ব্যবহার করে। মাঝে মাঝে শামা এসে ওকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে , ও শুনেছে, কিন্তু সব কাজ নিজের মতো করেই করেছে। নিজেকে শান্ত রেখেছে, চোখের পানিটুকু পর্যন্ত ফেলার অবকাশ দেয় নি। এমন কি মাকে কবরে রেখে এসেও নিজেকে ধরে রেখেছে।

কিন্তু কুলখানির পর যখন মিলন, হাবিব চলে গেলো, যেসব আত্মীয়-স্বজন এসেছিলো, তারা যখন বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে নিজেদের পথের দিকে রওয়ানা দিলো, ও যখন শূন্য, ফাঁকা ঘরটাতে একা ফিরে এলো, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না। মায়ের শূন্য বিছানার দিকে তাকিয়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো। গলার কাছে দলার মতো আটকে থাকা সমস্ত কিছু যেনো এক নিদারুণ চিৎকার দিয়ে বেরিয়ে এলো।

“বন্ধন ? বন্ধন বটে , সকলি বন্ধন —
স্নেহ প্রেম সুখতৃষ্ণা ; সে যে মাতৃপাণি
স্তন হতে স্তনান্তরে লইতেছে টানি ,
নব নব রসস্রোতে পূর্ণ করি মন
সদা করাইছে পান । স্তন্যের পিপাসা
কল্যাণদায়িনীরূপে থাকে শিশুমুখে —
তেমনি সহজ তৃষ্ণা আশা ভালোবাসা
সমস্ত বিশ্বের রস কত সুখে দুখে
করিতেছে আকর্ষণ , জনমে জনমে
প্রাণে মনে পূর্ণ করি গঠিতেছে ক্রমে
দুর্লভ জীবন ; পলে পলে নব আশ
নিয়ে যায় নব নব আস্বাদে আশ্রমে ।
স্তন্যতৃষ্ণা নষ্ট করি মাতৃবন্ধপাশ
ছিন্ন করিবারে চাস কোন্‌ মুক্তিভ্রমে!”

শামার যে কী হলো, শামা নিজেই যেনো তা বুঝতে পারছে না। সিরাজের মায়ের মৃত্যুর পর সিরাজের কঠিন কিন্তু কোমল ব্যবহার দেখে শামা যেনো নিজেকেই স্থির রাখতে পারছিলো না। বার বার ভেবেছে, এই বুঝি সিরাজ ভেঙ্গে পড়লো, ছুটে গেছে সিরাজের কাছে, কিন্তু দেখেছে এক নিষ্কম্প সিরাজকে। কী অদ্ভুত সুন্দরভাবেই না সব কাজ শেষ করলো সিরাজ! মাঝে মাঝে কিছু পরামর্শ দিতে গিয়েছিলো, সিরাজ শুনেছে, কিন্তু কাজ করেছে নিজের মতো করে। মায়ের মৃত্যু যেনো সিরাজকে অনেক পরিবর্তন করে ফেললো। মনে মনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললো শামা।

সব কাজ শেষ করে একটু স্থিতি হতেই সিরাজের সাথে দেখা করতে গেলো শামা। খুব শান্তভাবে বলতে লাগলো,

তুই হয়তোবা জানিস না, আমি এবরশন করিয়েছি। হ্যাঁ, আমার মনের সাথে আমাকে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে, অনেক রাত আমার নিদ্রাহীন কেটেছে, তুই শুনে অবাক হবি, বোধহয় একটু রাগও করতে পারিস, মনে মনে কয়েকবার আত্মহত্যার কথাও চিন্তা করেছি। কিন্তু কেনো জানি না, শেষ মূহুর্তে এই জীবনটাকে খুব ভালবেসে ফেললাম, নতুন করে সব কিছু শুরু করতে চাইলাম। নাফিস আর নাফিস সংক্রান্ত সব ঝেড়ে ফেললাম। নতুন করে এই পথ চলায় হঠাৎই মনে হলো তুই সাথে থাকলে আমি খুব শক্তি পাবো, তুই সাথে থাকলে সব বাধা বিপত্তিটাকে পেরিয়ে যেতে পারবো। এক সময় তো তুই চেয়েছিলি আমার এই হাতটাকে ধরতে, আমি দিতে চাই নি, আজ আমি তোর হাত ধরতে চাইছি, শক্ত করে, তুই কি ধরতে দিবি না? জানি আমি, তোর শরীরে এক কঠিন রোগ বাসা বেধেছে, হয়তোবা খুব বেশী দিন তুই আমাদের সাথে নেই, কিন্তু যে ক’টা দিন আছিস, তোকে কি আমি আমার পাশে পাবো না?

হাবিব সিরাজের মায়ের কুলখানি শেষ করে বাসায় এসেছে। সেলিনাকে বললো এক কাপ চা করে দিতে। কিছুক্ষণ আগে মিলনকে ঢাকার বাসে তুলে দিয়েছে, মিলনের সাথে কথা বলে মনে হোল সেলিনার সাথে দূরত্বটা মনে হয় কেটে গেছে। খুব ভালো লাগলো হাবিবের। পুরানো অনেক কিছুই স্মৃতিপটে খেলা করে গেলো। মিলন আর সিরাজ – এই দুইজন ওদের জন্য অনেক করেছে, হাবিব চায় নি ওদের এই বন্ধুত্বের পথচলাটা যেনো বক্র রেখায় শেষ হয়, সবসময় চেয়েছে তা যেনো সরল রেখার মতো অন্তহীনভাবে চলে। যেমনভাবে চেয়েছে মিলির সাথে ওর সম্পর্কটার পরিণতি।

ঢাকাতে যেদিন মিলি আর শিহাবের সাথে ওর দেখা হলো, ও খুব হতাশ হয়ে গিয়েছিলো। মনে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে শিহাবকে ওর বাংলা সিনেমার ভিলেনের মতোই মনে হয়েছিলো। মিলি খুব বুদ্ধিমতীর মতো শিহাব আর সিরাজকে সরিয়ে দিয়েছিলো। হাবিব ভেবেছিলো, সমস্ত ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটাবে। কিন্তু মিলির কথা শুনে ও যেনো স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলো, কিছু সময়ের জন্য মুখে যেনো কোনো কথাই আসছিলো না। চট্টগ্রামে ফিরে এসে একা একা চিন্তা করে হাবিবের মনে হোল এই বেশ ভালো হয়েছে। সেলিনার দিয়ে যাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে যেনো হাবিবের কানে মিলির সেই কথাগুলোই বাজছিলো-

হাবিব ভাই,তুমি আমার সেই ছোটবেলা থেকে, যখনো ভালোবাসা কাকে বলে ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারি নি, তখন থেকেই আমার মনে কিসের অনুভূতি যেনো সৃষ্টি করতে। তোমার সাথে খেলতে, তোমার সাথে কথা বলতে, তোমার সাথে ঝগড়া করতে, সবসময় তোমার পাশে থাকতে আমার খুব ভালো লাগতো। একটু বড়ো যখন হতে লাগলাম, ভালোবাসা শব্দটি যখন পরিচিত হতে লাগলো, মনে হলো, এটাই বুঝি ভালোবাসা। তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে লাগলাম। তোমাকে নিয়ে অনেক রঙ্গিন স্বপ্নের জাল বুনতে লাগলাম। তুমি ঢাকায় আসার পর মনে হলো, এইবার আমি তোমাকে আমার মতো করে পাবো। কিন্তু মানুষ ভাবে এক, বিধাতা ভাবেন আরেক। তুমি এক্সিডেন্ট করলে, অসুস্থ হয়ে প্রায় এক বছরের মতো হাসপাতাল আর পুনর্বাসন কেন্দ্রে রইলে। বিশ্বাস করো, সেই সময়টা আমি অসম্ভব অসহায় হয়ে পড়েছিলাম, নিজেকে যেনো তিলে তিলে নিঃস্ব করে ফেলছিলাম। এমন সময়ই শিহাব এগিয়ে আসে আমাকে এই স্বেচ্ছা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে। লাভগুরু, নির্ঝর আর কায়েস হয়ে যায় প্রতি রাতে আমার ভালোবাসার শিক্ষক। আমি যেনো নতুন করে ভালোবাসাকে বুঝতে শিখি, জানতে শিখি। ভালোবাসা যেনো একটু একটু করে আমার কাছে উন্মুক্ত হতে থাকে। আমি সেই সময়টাতেও তোমাকে নিয়ে ভেবেছি, কিন্তু জানো কী, অবাক হয়ে আমি আবিষ্কার করলাম, তোমার সাথে আমার কোনো ভালোবাসার দৃশ্য মনের কোনো ফ্রেমে নেই, ভালোবাসার জন্য উন্মুখ এই কিশোরী মিলি তোমাকে ভালোভাবে বোঝার কোনো সুযোগই পায় নি। হাবিব ভাই, আমি এখনো তোমাকে ভালোবাসতে চাই, কিন্তু আমাকে একটু সময় দিবে কী? ভয় নেই, শিহাব আমাকে আর ভালোবাসে না, পৃথিবীর কোনো একপ্রান্তে হয়তোবা ওর জন্য কোনো এক রেমি অপেক্ষা করে আছে। আমি শুধু চাই, তোমাকেই ভালবাসতে, নিজের মতো করে ভালবাসতে, যে ভালোবাসাকে আমি চিনেছি, জেনেছি, সেই ভালোবাসায় আমি তোমাকে আলিঙ্গন করতে চাই, শুধু তার আগে চাই কিছুটা সময়, যেই সময়ের ভিতর আমি তোমাকে আরো নিগূঢ়ভাবে বুঝতে পারবো। আমি জানতে পারবো, খুঁজতে পারবো, এই আমি, মিলি, তোমাকে আসলেই ভালোবাসি কতটুকু, কতটুকু খাঁটি সেই ভালোবাসা। তুমি কী দেবে না আমায় সেই সময়টুকু?

হাবিব এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চায়ের কাপটা রাখতেই সেলিনার রুম থেকে শুনতে পেলো জিম ক্রসের গাওয়া ওর খুব প্রিয় একটা গান-

“Well, I know it’s kind of late
I hope I didn’t wake you
But what I got to say can’t wait I know you’d understand
Ev’ry time I tried to tell you
The words just came out wrong
So I’ll have to say I love you in a song

Yeah, I know it’s kind of strange
But ev’ry time I’m near you
I just run out of things to say
I know you’d understand
Ev’ry time I tried to tell you
The words just came out wrong
So I’ll have to say I love you in a song

Ev’ry time the time was right
All the words just came out wrong
So I’ll have to say I love you in a song

Yeah, I know it’s kind of late
I hope I didn’t wake you
But there’s something that I just got to say
I know you’d understand
Ev’ry time I tried to tell you
The words just came out wrong
So I’ll have to say I love you in a song”.

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s