নয়নের জন্য কৌতুক! এবং কিছু বোনাস!!

১)
অবশেষে নয়ন বিভিন্ন কবিতার মাধ্যমে, চতুর্মাত্রিক ব্লগের সকলের সাহায্যে তার প্রিয়াকে রাজী করাতে পেরেছে। প্রিয়া রাজী হবার কিছুদিনের মধ্যেই নয়নের জন্মদিন চলে এলো।
নয়নঃ কি ব্যাপার! তুমি আমার জন্মদিনে কোনো প্রাইজ দিলে না!
প্রিয়াঃ তুমিই তো বললে, তোমার জন্মদিনে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে, তাই কোনো প্রাইজ দিলাম না, এটাইতো সারপ্রাইজ, তাই না!

২)
কিছুদিন পর নয়নের প্রিয়া নয়নের কাছে আবদার করলো তার একটি বার্বি পুতুল চাই।
নয়ন ঢাকার একটা বিশাল পুতুলের দোকানে ঢুকে একটি বার্বি পুতুল কিনতে চাইলো।
দোকানদারঃ কোনটা চান? জিমে যাওয়া বার্বি—২০০ টাকা, সৈকতে যাওয়া বার্বি—২০০ টাকা, নাইটক্লাবে যাওয়া বার্বি— ২০০ টাকা, দোকানে যাওয়া বার্বি— ২০০ টাকা, নৃত্যরত বার্বি—-২০০ টাকা, ডিভোর্সী বার্বি—- ৪০০০ টাকা।
নয়নঃ কেনো, কেনো, কেনো? সবগুলো ২০০ টাকা, ডিভোর্সী বার্বি কেনো ৪০০০ টাকা?
দোকানদারঃ কারন, ডিভোর্সী বার্বির সাথে থাকবে তার আগের স্বামীর গাড়ী, আগের স্বামীর বাড়ি, আগের স্বামীর বিড়াল এবং আগের স্বামীর ফার্নিচার!

৩)
একদিন নয়ন বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের কোচ স্টুয়ার্ট ল’ এর সাথে কথা বলছে—
কোচঃ তুমি কি জানো, আমি আশরাফুলকে সব সময় বিস্ময় বালক বলি!
নয়নঃ কেনো?
কোচঃ যতবারই জাতীয় টিমে আমি তার খেলা দেখি, বিস্ময়ে অবাক হয়ে ভাবি, কেনো ও টীমে?

৪)
নয়ন একদিন প্রিয়াকে নিয়ে এক গাইনী ডাক্তারের কাছে গেলো (কেনো গেলো জিজ্ঞেস করবেন না, আমি জানি না)। সেখানে গিয়ে সে দেখলো এক মা তার মেয়েকে ডাক্তারের কাছে দেখাতে নিয়ে এসেছে। ডাক্তার মেয়েকে পরীক্ষা করে বললো, “আপনার মেয়ে মা হতে চলেছে।”
মাঃ অসম্ভব! আমার মেয়ের এখনো বিয়েই হয় নি! কিরে ডাক্তার কি বলছে!
মেয়েঃ না, মা। আমি তো কোনো পুরুষ মানুষের দিকে তাকাইও না!
ডাক্তার কিছুক্ষণ মা আর মেয়েকে দেখে জানালার ধারে গিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর মা বলল, “কি হলো ডাক্তার?”
ডাক্তারঃ আমি দেখছি, বাইরে কোনো তিনজন পন্ডিত ব্যক্তি এখানে আসছেন কি না আর পুব আকাশে কোনো তারা দেখা যাচ্ছে কি না। কারন শেষবার যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটে তখন পুব আকাশে তারা দেখা গিয়েছিলো আর তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সেই বাচ্চাটাকে দেখতে গিয়েছিলো!

৫)
(কল্পনার সাগরে পাড়ি দিয়ে ভবিষ্যতে চলে যাই আমরা)
একদিন নয়নকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নয়নের স্ত্রী প্রিয়া পুলিশকে ডেকে রিপোর্ট করলো, নয়নকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ নয়ন কেমন ধরনের জানতে চাইলো।
প্রিয়াঃ নয়ন হচ্ছে ৬ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা, গায়ের রং ফর্সা, তার হাসিটা এমন সুন্দর, যে কেউ দেখলে ওকে পছন্দ করবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য পাশের বাসায় বসবাসরত ডাঃ নিয়াজের কাছে গেলেন। নয়ন দেখতে কেমন, তা ডাঃ নিয়াজের কাছে জানতে চাইলেন।
ডাঃ নিয়াজঃ নয়ন হচ্ছে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা, গায়ের রং শ্যামলা আর তার হাসি দেখলে যে কেউ অপছন্দ করবে!
পুলিশ এসে এবার প্রিয়াকে জিজ্ঞেস করলো, “কেনো আপনি মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন?”
প্রিয়াঃ আমি নয়নের নিখোঁজ সংবাদ আপনাদেরকে দিচ্ছি, তারমানে এই নয় যে, ওকে আমি খুঁজে ফিরে পেতে চাচ্ছি!

বোনাস কৌতুকঃ

১)
আমি সেদিন কোনো খবর নেই কেনো তা শোনার জন্য বাপী ভাইকে কানাডায় ফোন দিলাম। উনার আন্সেরিং মেশিন আমাকে যে উত্তরটি দিলো তা হলো—
“হাই, আমি বাপী হাসান।আপনি যদি ফোন কোম্পানির লোক হয়ে থাকেন, আমি ফোন বিল দিয়ে দিয়েছি। তুই যদি সুরঞ্জনা হোস, কিছু টাকা বাংলাদেশ থেকে পাঠিয়ে দে। আপনি যদি আমার অর্থনৈতিক সাহায্যকারী সংস্থার কেউ হোন, গতবার আপনারা আমাকে তেমন সাহায্য করেন নি। তুমি যদি আমার বন্ধু হও, আমার কাছ হতে কিছু টাকা পাবে, আমি জানি। আর তুমি যদি কোনো মেয়ে হও, ভয় পেয়ো না, আমার কাছে প্রচুর টাকা আছে!”

২)
আমাদের নাজমুল হুদা ভাই এক সময় কলেজের শিক্ষক ছিলেন। এক সময় তিনি আবিষ্কার করলেন, বাথরুমের আয়নায় লিপস্টিকযুক্ত ঠোটের চিহ্ন। উনি বুঝতে পারলেন এটা ছাত্রীদের কাজ। ব্যাপারটা মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ার আগেই তিনি একদিন কলেজের সকল লিপস্টিক দেওয়া ছাত্রীদের জড়ো করে বাথরুমে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, “তোমরা জানো না, আয়না থেকে এই দাগগুলো পরিষ্কার করা কতটা কষ্টকর!” কতটা কষ্টকর, সেটা তিনি দেখানোর জন্য কলেজের সুইপারকে ডাকলেন।
সুইপার প্রথমে ব্রাশকে কমোডের পানি দিয়ে পরিষ্কার করে আয়না ঘষা শুরু করলো। সেদিন থেকে আয়নাতে আর কোনো লিপস্টিকযুক্ত ঠোটের চিহ্ন পাওয়া গেলো না।

৩)
একবার কানাডাতে আমিন শিমুল ভাইয়া এক হাসপাতালে গেলেন একটা খুব ছোট অপারেশন করানোর জন্য (ঘাড়ে একটা লাইপোমা হয়েছিলো, আমাকে মেইল করে জানালে আমিই হাসপাতালে যেতে বলেছিলাম)।
খুব সুন্দরী একজন নার্স তার সমস্ত তথ্য একটি কাগজে লিখে নিচ্ছেন-নাম, ইন্সুরেন্স কোম্পানি, ইত্যাদি।
নার্সঃ ইমার্জেন্সী মুহূর্তে, আমরা কাকে খবর দিবো?
আমিন শিমুল ভাইয়াঃ আপনি বুঝাতে চাচ্ছেন, যদি আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি?
নার্সঃ হ্যাঁ।
আমিন শিমুল ভাইয়াঃ যদি তাই ঘটে, তাহলে একজন ডাক্তারকে ডাকবেন!

৪)
তন্ময় ভাইয়া যেমন ব্লগে খুবই বাচাল, তেমনি সে ক্লাসেও বাচাল। আমি যে ঘটনাটা বলবো, সেটা কাগজের নৌকার কাছ হতে শোনা।
তন্ময় ভাইয়ার পরীক্ষা সামনে। এর আগে আরেকটি পরীক্ষা সে দিয়েছিলো। সেটাতে খুব একটা ভালো করতে পারে নাই (সারাদিন ব্লগে থাকার ফল!)।
ম্যাডাম রিপোর্ট কার্ডের নিচে লিখে দিয়েছেন, “তন্ময় ক্লাসে খুব কথা বলে। তবে চিন্তা করবেন না, আমি এমন একটি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি যে, সে ঠিক হয়ে যাবে?”
রিপোর্ট কার্ডটিতে স্বাক্ষর দিয়ে নিচে তন্ময় ভাইয়ার বাবা লিখেছেন, “আপনি সফল হলে আমাকে জানাবেন। তাহলে পদ্ধতিটি আমি আমার আরেক বন্ধুকে জানাবো ( যার ছেলের নাম নয়ন!)।”
(দুইজনকে বসিয়ে দিয়ে শ্রেষ্ঠ বাচাল হবার রাস্তা বের করছি!)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s