ইতিহাসের পাতা থেকেঃ ব্রিটেন (১)

অনেকদিন যাবত ইচ্ছে ছিলো বিশেষ কয়েকটি সাম্রাজ্য নিয়ে লেখালেখি করার, যেমন, রোমান সাম্রাজ্য, ইংল্যান্ডের ইতিহাস, গ্রীক সভ্যতা, আমেরিকার সভ্যতাসমূহ, উমায়ীয়, আব্বাসীয় খেলাফত, বাইজানটাইন সাম্রাজ্য, ইত্যাদি ইত্যাদি। ইতিহাসের এই দিকগুলো খুব চমকপ্রদ বা শিক্ষনীয় হলেও, এর পাঠক খুব কম। সে কারণে আর লেখা হয়ে উঠেনি। কিন্তু এবার পাঠক সংখ্যার তোয়াক্কা না করেই, শুধুমাত্র নিজের মনের আনন্দেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিলাম। জানি না, শেষ করতে পারবো কি না, জানি না, সবাই কীভাবে গ্রহন করবে, তারপরও শুরু করলাম। প্রথমেই শুরু করবো ইংল্যান্ডের ইতিহাস দিয়ে।

ব্রিটেনের ইতিহাসঃ

ব্রিটেনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে বলা ভালো, ব্রিটেনের লিখিত ইতিহাস বলতে বোঝায় ৪৩ খ্রীস্টাব্দে ব্রিটেনের দক্ষিনের সমুদ্র সৈকতে রোমান সেনাপতি জুলিয়াস সীজারের আক্রমন থেকে শুরু করে পরবর্তী ঘটনাবলীকে, যদিও এর আগের কিছু কিছু ঘটনাও লিপিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। আমরা এখানে তারও পূর্ব থেকে, অর্থাৎ ব্রিটেনে মানুষের প্রথম পদার্পন থেকে শুরু করবো, যা ‘ইতিহাসের পূর্বে’ শিরোনাম দিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হবে।

ইতিহাসের পূর্বেঃ

শেষ বরফ যুগঃ

DNA analysis-এ দেখা গেছে, কমপক্ষে প্রায় ২৫০০০ হাজার বছর আগে, শেষ বরফ যুগের আরম্ভেরও আগে থেকেই ব্রিটেনে মানবজাতির আগমন ঘটে। আরো দেখা যায়, শেষ বরফ যুগ শুরু হয় উত্তর দিক থেকে, (যেখানে বৃটেনের প্রথম মানব বসতি শুরু হয়) এবং ধীরে ধীরে দক্ষিন ইউরোপের দিকে অগ্রসর হয় (ইউরোপের অধিকাংশ জায়গা তখন বরফে আচ্ছাদিত-যাকে ‘তুন্দ্রা’ বলা হয়) ।

পৃথিবীর অধিকাংশ পানি বরফ দ্বারা আটকে যাওয়ায়, বর্তমান সময় থেকে সমুদ্রসীমা (Sea level) প্রায় ৪১৭ ফুট নীচে নেমে যায়। ফলে ব্রিটেনের সাথে ইউরোপের অন্যান্য জায়গার সরাসরি সংযোগ ঘটে, যা Doggerland- নামে পরিচিত। Doggerland ৬৫০০ অথবা ৬২০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিলো, পরবর্তীতে সমুদ্রসীমা উঁচু হয়ে যাওয়াতে ডুবে যায়।


Figure 1: ডগারল্যান্ড

নিওলিথিক বা নতুন প্রস্তর যুগঃ

আর্কিওলজিকাল প্রমাণে দেখা যায়, আবহাওয়ার পরিবর্তনে প্রায় ১২০০০ খ্রীঃপূঃ থেকে ব্রিটেনে মানব বসতি শুরু হয় এবং ৪০০০ খ্রীঃপূঃ থেকে নিওলিথিক (Neolithic) কালচারের মানুষদের পদচারণায় ব্রিটেন সমৃদ্ধ হতে থাকে। যদিও, ব্রিটেনে রোমান যুগের আগের বসতি সম্পর্কে লিখিত কিছু জানা যায় নি, তাই এই সমস্ত কিছুর ভিত্তি হচ্ছে আর্কিওলজিকাল পরীক্ষা ও প্রমাণাদিসমূহ।

নিওলিথিক যুগ মানে নতুন প্রস্তর যুগের মানুষেরা কৃষিকাজের সূচনা করে। তারা পাথর ভাঙ্গার কাজ এবং হরিনের শিংয়ের ব্যবহারও করতে জানতো।বাসনপত্রের (Stone pottery) ব্যবহার এই যুগের অন্যতম এক বৈশিষ্ট্য। নিওলিথিক যুগের কৃষকেরা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বাস করা শুরু করেছিলো, তারা জমি পরিস্কার করে গম এবং বার্লির চাষ করতো। তারা ভেড়ার পাল এবং শুকরসহ বিভিন্ন গবাদি পশুও পালন করতো। শিকারের কাজে ছোট ছোট কুকুরের ব্যবহারও হতো।
বসতি স্থাপনকারীরা পাহাড়ী ভূমি এবং উপকূল এলাকায় সহজে জমি চাষ করতে পারতো, এই কারণে ব্রিটেনের দক্ষিন এবং পশ্চিমে বসতি ছিলো বেশী।তারা আয়তক্ষেত্রের মতো লগ কেবিনে বাস করতো। তাদের গোষ্ঠীগুলো আকারে ছোট হতো, কিন্তু যে কোনো কাজ করতো দলবদ্ধভাবে। এভাবেই তারা তৈরী করেছিলো Sweet Track (সুইট ট্র্যাক হচ্ছে Causeway-জলের উপর দিয়ে তৈরী উঁচু পথ বা রাস্তার পাশের উঁচু ফুটপাত)। ৩৮০৭/৩৮০৬ খ্রীঃপূঃ-এ ইংল্যান্ডের সমারসেটে ২০০৯ সালের পূর্ব পর্যন্ত দাবীকৃত পৃ্থিবীর সবচেয়ে পুরাতন রাস্তা সুইট ট্র্যাক তৈরীর কাজ শুরু হয় (২০০৯ সালে আবিষ্কৃত হয় লন্ডনেরই বেলমারিস প্রিজনের একটি রাস্তা, যা প্রায় ৬০০০ বছর পূর্বে তৈরী করা হয়)।


Figure 2: সুইট ট্র্যাক

নিওলিথিক যুগের মানুষেরা যদিও কৃষিকাজ জানতো, কিন্তু তারা বিস্তারিতভাবে তা জানতো না, ফলে প্রতি ১০-২০ বছর পর জমিগুলো কৃ্ষিকাজের অনুপযোগী হয়ে উঠতো এবং গোষ্ঠীগুলো অন্য জায়গায় চলে যেতো। তারা এমন জায়গায় যেতো যেখানে আগে চাষ হয় নি। দুই-তিন প্রজন্ম পর দেখা যেতো তারা সেই প্রথম পুরানো জায়গাতেই ফিরে গেছে, যেখানে জমিগুলো পুনরায় চাষের উপযোগী হয়ে উঠতো।

এই যুগের মানুষদের জীবনকাল খুব সংক্ষিপ্ত ছিলো, পুরুষরা বাঁচত ৩৫ বছরের মতো আর মহিলারা ৩০ বছর। অপুষ্টির জন্য আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত ছিলো প্রায় সবাই।মৃত্যুর পর এক কবরেই প্রায় ৫০ জনের মতো কবর হতো, এই কবরগুলোকে বলা হতো Long Barrows.

ব্রোঞ্জ যুগঃ

২৫০০ খ্রীঃপূর্বাব্দের দিকে ব্রিটেনে এক নতুন ধরনের মানুষদের বসতি স্থাপন শুরু হয়। এদের কবরে প্রাপ্ত বাসনপত্রের আকার অনুযায়ী এদেরকে বলা হয় বীকার মানুষ। যদিও প্রথম দিকে এরা সংখ্যায় কম ছিলো, কিন্তু আস্তে আস্তে এরা নিওলথিক যুগের মানুষদের উপর আধিপত্য বিস্তার শুরু করে এবং সমাজের ক্ষমতাশালীতে পরিণত হয়। এই বীকার মানুষেরা ছিলো মূলত কৃষক এবং তীরন্দাজ এবং এরাই ছিলো ব্রিটেনের প্রথম প্রজন্ম যারা ধাতুর জিনিস তৈরি করতো। প্রথম দিকে এরা তামা ও সোনা দিয়ে জিনিস তৈরি করতো, পরবর্তীতে ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করা শুরু করে, যে থেকে এই যুগের নাম হয় ব্রোঞ্জ যুগ। তারাই ব্রিটেনে প্রথম মধু দিয়ে একপ্রকার এলকোহল তৈরি করে। চাষাবাদের ক্ষেত্রেও নিওলিথিক মানুষদের থেকে ভিন্নতার সৃষ্টি হয় এবং জমিগুলো প্রায় শত বছরের মতো ব্যবহার হতে থাকে।

ব্রোঞ্জ যুগের আরেকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে Stone circle। ২০০০ খ্রীঃপূঃ-এ বর্তমান ইংল্যান্ডের ওয়াল্টশায়ার কাউন্টিতে Stonehenge-এর inner circle-এর কাজ শুরু হয়। স্টোনহেঞ্জ হচ্ছে বিশাল সমতল ভূমিতে খাড়া পাথরে তৈরি বিস্ময়কর এক স্থাপনা। ধূসর বর্ণের প্রায় ১৩ ফুট উচ্চতার পাথরগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্যের ছাপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সঙ্গে এর স্থাপত্যের কিছু মিলও লক্ষ করা যায়। স্থাপত্যের চারপাশজুড়ে বেশ খানিকটা স্থান মিলে কয়েক’শ প্রাচীন কবর আছে। এত পুরোনো এ স্তম্ভ নির্মাণের কারণ কিংবা নির্মাণশৈলীর কোনো তথ্য জানা নেই কারও। ১৭০০ শতাব্দীতে ঐতিহাসিকেরা দাবি করলেন, স্টোনহেঞ্জ সেলটিক ধর্মযাজকদের নির্মিত। এদের বলা হয় ড্রুয়িদ। অসম্ভব রহস্যময় এই যাজকদের অলৌকিক নানা শক্তি ছিল। তবে তাদের নিয়ে তেমন কোনো তথ্য ছিল না কারও কাছেই। সে সময়ের একজন স্থাপত্যবিদ ইনিগো জোনস বললেন রোমানদের কথা। আবার প্রত্নতাত্ত্বিক ইলিয়ট স্মিথ স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের কৃতিত্ব দিলেন মিসরীয় বা ফিনিশীয়দের। ১৮০৮ সালে ইংরেজ প্রত্ন সংগ্রাহক স্যার রিচার্ড কোল্ট হোয়ার স্টোনহেঞ্জের চারপাশের প্রাচীন কবরগুলো থেকে ব্রোঞ্জের অস্ত্রশস্ত্র, সোনার অলংকারসহ হাড়ের স্তূপ খুঁজে পান। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঐতিহাসিকেরা স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের তিনটি সময়কাল তৈরি করেন।


Figure 3: স্টোনহেঞ্জ

ধারণা করা হয়, স্টোনহেঞ্জকে হয়তো একটি পবিত্র স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ১৭৪০ সালে উইলিয়াম স্টুকলে একে ড্রুয়িদদের প্রার্থনার ঘর হিসেবে উল্লেখ করেন। ১৮৪০ সালে এডওয়ার্ড ডিউক একে শনি গ্রহের কক্ষপথের সঙ্গে তুলনা করেন। বহু বিশেষজ্ঞ একে প্রাচীন জাদুর কেন্দ্র হিসেবেও বর্ণনা করে গেছেন। ২০০৮ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উল্লেখ করেন, এটি প্রাচীন একটি সমাধিস্থল। ১৯৮৬ সালে ইউনেসকো একে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আয়রন বা লৌহ যুগঃ

স্টোনহেঞ্জের সময়কালে ব্রিটেনে পুরোহিত সমাজের প্রাধন্য ছিলো খুব বেশী। কিন্তু ১৮০০ খ্রীঃপূঃ থেকে ১২০০ খ্রীঃপূঃ-এর দিকে যারা সমাজে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরী করতো, তারা হয়ে উঠে ক্ষমতাশালী। ১০০০ খ্রীঃপূঃ এর সময়কালে ব্রিটেনে যোদ্ধাশ্রেনীর আবির্ভাব ঘটে এবং এরাই পরবর্তীতে সমাজের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। অনেক বিশ্বাস করেন এই যোদ্ধারাই হয়তো ‘Proto-Celts’।

৭৫০ খ্রীঃপূঃ থেকে ৬০০ খ্রীঃপূঃ দক্ষিন ইউরোপ হতে ইংল্যান্ডে লোহার ব্যবহার শুরু হয় এবং ব্রিটেনে লৌহ যুগের সূচনা ঘটে এবং একই সাথে শুরু হয় সেল্টিকদের বসতি স্থাপন। সেল্টিকরা ছিলো ছোট ছোট বিভিন্ন গোষ্ঠী যাদের মধ্যে ভাষা, ধর্ম এবং সামাজিক নিয়মকানুনের যোগসূত্র ছিলো। এরা প্রধানত গল (বর্তমান ফ্রান্স, বেলজিয়াম) থেকে বিভিন্ন সময়ে এসে ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গায় বসতি স্থাপন করতে থাকে। এদের নিজেদের কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠন ছিলো না এবং বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ করতো। এরা ছিলো যোদ্ধা জাতি এবং যুদ্ধের মধ্যেই গৌরব খুঁজে পেতো এবং এরাই প্রথম ব্রিটেনে লোহার ব্যবহার শুরু করে।

Old Sarum-এর নির্মানকাজ এই সময়েই শুরু হয়। ওল্ড সারাম হচ্ছে সালিসবুরির কাছে সবচেয়ে পুরাতন বসতিগুলোর মধ্যে একটি, এটি আসলে লৌহ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, একট পাহাড়ী দূর্গ।


Figure 4: ওল্ড সারামের মডেল

ওল্ড সারামের মতো আরো প্রায় ২০০০ টি লৌহ যুগের পাহাড়ী দূর্গ ছিলো পুরো ব্রিটেনে। এইসব পাহাড়ী দূর্গগুলো ছিলো সেল্টিকদের অন্যতম নিদর্শন। তবে সাধারণত এইসব পাহাড়ী দূর্গে পানির উৎস থাকতো না, তাই দীর্ঘ সময় ধরে এগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

পাইথিয়াসের (পাইথিয়াস ছিলেন গ্রীক ভূতত্ত্ববিদ, জন্মঃ ৩৫০ খ্রীঃপূঃ) বর্ণনামতে সেল্টিকরা গম চাষে খুব পারদর্শী ছিলো। রোমানদের সূত্রে জানা যায়, সেল্টিকরা শিকারী কুকুর, পশুর চামড়া এবং দাস বাইরে রপ্তানী করতো। তারা ধাতব মুদ্রারও প্রচলন শুরু করে।

রোমান সাম্রাজ্য যেহেতু উত্তর দিকে অগ্রসরমান ছিলো, তাই রোমানরা বৃটেনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। রোমের দখলকৃ্ত অঞ্চল থেকে মানুষের ব্রিটেনে আশ্রয় গ্রহন বা ব্রিটেনের খনিজ সম্পদের জন্যও ব্রিটেন আক্রমন করা রোমের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠে। এবং এই রোমান আক্রমণে প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবে সেল্টিকরাই এগিয়ে আসে। ইতিহাস সবসময় বিজয়ীদের পক্ষে থাকে বলেই ইতিহাসে সেল্টিকদের বারবারিয়ান যাযাবর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

Advertisements

4 thoughts on “ইতিহাসের পাতা থেকেঃ ব্রিটেন (১)

  1. আরো কিছু চাচ্ছি,পরের পর্বে যদি বিট্রিশ সাম্রাজ্য গোড়া পত্তন এবং তাদের পতন নিয়ে কিছু থাকলে ভালো হতো।জানি না আমার কমেন্ট আপনার চোখে পরবে কিনা।

  2. আর কেউর কাছে ভাল লাগল না লাগল জানি না আমার কাছে ভীষণ ভাল লেগেছে……….এমনিই ইতিহাস খুব কম জানি। তথ্য বহুর লেখা
    পরবতী পর্বের জন্য অপেক্ষা করব…………
    “পাঠক সংখ্যার তোয়াক্কা না করেই, শুধুমাত্র নিজের মনের আনন্দেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিলাম”
    আপনার এই কথাটার সাথে আমি একমত । আমিও এই নিয়মটা মানি…….নিজের মনে আনন্দের জন্য লেখা………..
    কিন্তু আপনার এই লিখাটা পড়ে মনে হয় আপনি ইতিহাসের ছাএ ছিলেন..:P
    সুন্দর হয়েছে………..
    বিশেষ ধন্যবাদ………….
    ভাল থাকুন……
    অগ্রীম ঈদের শুভেচ্ছা রইল….

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s