The Woman I Love

১)

গত দুই দিন যাবত আমি একটু অসুস্থ, জ্বর ছিলো, এখন নেই, কিন্তু শরীর দুর্বল। এই সময়টাতে আমার স্ত্রী আমাকে প্রচন্ডভাবে সাহায্য করেছে। হাসপাতালে জানিয়ে দেওয়া, ওষুধ কেনা, খাওয়া-দাওয়া আরো অনেক কিছুই খুব সুচারুভাবে সম্পন্ন করেছে, এরই সাথে নিজের ডাক্তারীটাও চালিয়ে গেছে। আমার বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব দেখতে খুব ভালো লাগছিলো। কিছুক্ষন আগে মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কি করতে পারতাম সে যদি অসুস্থ হতো? জানি না! ঠিক এমন সময়ই কেনো জানি না ইংল্যান্ডের এডওয়ার্ডের কথা মনে পড়ে গেলো, যিনি প্রেমের জন্য সিংহাসনই ছেড়ে দিলেন।

২)

এডওয়ার্ড যখন জন্মগ্রহন করেন তখনো ইংল্যান্ডের সিংহাসনে ছিলেন তাঁর প্রপিতা-মহী রানী ভিক্টোরিয়া। অথচ ১৬ বছর বয়সের মধ্যেই সে Prince of Wales (যা শুধুমাত্র crown prince-ই পেয়ে থাকে) উপাধি পেয়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তাঁর সুন্দর চেহারা, রাজকীয় উপাধি, বিভিন্ন দেশে ভ্রমন, রাজ্যের লোকদের প্রতি তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাঁর অবিবাহিত স্টাটাস তাঁকে সেই সময়কালের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং most valuable bachelore-এ পরিণত করে। প্রিন্স এডওয়ার্ড ঠিক এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার (!) করে একটার পর একটা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মজার বিষয় হচ্ছে বেশীরভাগ সম্পর্কগুলোই ছিলো বিবাহিতাদের সাথে। এভাবেই ১৯৩০ সালের কোনো এক সন্ধ্যায় এক পার্টিতে প্রিন্স এডওয়ার্ডের সাথে পরিচয় হয় মিসেস সিম্পসনের, এক আমেরিকান মহিলা, যিনি প্রথম স্বামীর সাথে ডিভোর্স হবার পর দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তিন বছর ধরে সংসার করছেন।

সে সময়কার চার্চ অব ইংল্যান্ড ডিভোর্সী মহিলাকে বিয়ে করা ব্যাপারটা তখনো মেনে নেয়নি, আর রাজা যেহেতু চার্চ অব ইংল্যান্ড-এর প্রধান, তাই তাঁর পক্ষে চার্চের নিয়মের বাইরে যাওয়াও অসম্ভব ব্যাপার। (মজার ব্যাপার হচ্ছে, চার্চ অব ইংল্যান্ড রোমান ক্যাথলিক থেকে আলাদা হয়েছিলো রাজা হেনরির বহু বিবাহের মনোবাসনা পূর্ণ করার জন্য) তাই রাজা হবার আগ পর্যন্ত এডওয়ার্ড সিম্পসনকে বিয়ে করার মতো সাহস অর্জন করতে পারেন নি (না কি তাঁর বাবাকে কষ্ট দিতে চান নি?)

১৯৩৬ সালের জানুয়ারী মাসে যখন তিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসেন তখন থেকেই এই ব্যাপারটা জটিল হতে থাকে। সেই সময়কার ব্রিটিশ নিয়মানুযায়ী রাজপরিবারের সিংহাসনে আরোহনের আইন পরিবর্তন করতে হলে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এবং ব্রিটিশ ইমপেরিয়ালের অন্যান্ন দেশের পার্লামেন্টের অনুমোদন লাগবে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও দঃ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রীরা এই বিয়ের সরাসরি বিরোধিতা করলেন, আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মধ্যপন্থায় গেলেন আর নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বললেন, তিনি মিসেস সিম্পসনের নামই শুনেন নি। এরপরো প্রিন্স এডওয়ার্ড রাজা থেকেই চার্চ অব ইংল্যান্ডকে অবজ্ঞা করে, মন্ত্রী পরিষদের কথা না শুনে মিসেস সিম্পসনকে বিয়ে করতে পারতেন। কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে দেশ সাংবিধানিক সংকটের সম্মুখীন হবে বলে তিনি শেষ পর্যন্ত ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সিংহাসন ছেড়ে দিলেন এবং জনগনকে তাঁর সেই অবিসংবাদিত ভাষন দিলেন, “I have found it impossible to carry the heavy burden of responsibility and to discharge my duties as king as I would wish to do without the help and support of the woman I love.”

এডওয়ার্ড ও মিসেস সি্ম্পসন, বিয়ের দিন

১৯৩৭ সালের জুন মাসে এডওয়ার্ড শেষ পর্যন্ত মিসেস সিম্পসনকে বিয়ে করেন ফ্রান্সে, যেহেতু চার্চ অব ইংল্যান্ড এই বিয়ে সমর্থন করেনি। এবং তাঁরা আর কখনও ইংল্যান্ডেও থাকতে পারেনি, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ফ্রান্সেই ছিলেন। (মাঝে একবার বাহামাতে তাঁরা ছিলেন গভর্নর হিসেবে, লন্ডনে তাঁর মা মারা যাবার পর দুয়েকটি অনুস্ঠানে এসেছিলেন আর তাঁদের মৃত্যুর পর রানী এলিজাবেথ তাঁদের দুইজনকেই সেন্ট জর্জ চ্যাপেল, উইন্ডসর ক্যাসেলে সমাহিত করেন।

৩)

খুব ইন্টারেস্টিং একটা জিনিস চোখে পড়লো। প্রিন্স এডওয়ার্ড ডিভোর্সী মহিলা সিম্পসনকে বিয়ে করে রাজত্ব হারালেন আর প্রিন্স চার্লস আরে্ক ডিভোর্সী মহিলা ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করেও রাজা হবার জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রিন্স এডওয়ার্ড বিয়ে করে ইংল্যান্ডেই থাকতে পারলেন না, প্রিন্স চার্লস বহাল তবিয়তেই আছেন। প্রিন্স এডওয়ার্ড-এর সময় সে সময়কার কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জোরালো আপত্তি তুলেছিলেন, প্রিন্স চার্লসের বেলায় কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা-এই বিয়েতে কানাডার জনগনের মতামতের প্রয়োজন নেই। প্রিন্স এডওয়ার্ড-এর বিয়ে চার্চ অব ইংল্যান্ড করতে চায়নি, বিয়ে হয়েছে ফ্রান্সে, আর প্রিন্স চার্লসের বিয়ে হলো লন্ডনের উইন্ডসর ক্যাসেলে।

সময়ের কাছে কি নিদারুন ভাবেই না পরাজিত হলেন প্রিন্স এডওয়ার্ড! জগতের রাজত্ব হারিয়ে সবার কাছে রইলেন প্রেমের রাজা হিসেবে!

৪)

লিসা, আমি তোমাকে ভালোবাসি-আমার জীবনের সমস্ত স্বত্তা দিয়ে। আমার শয়নে, স্বপনে তুমি, আমার কাজে-কর্মের প্রেরণায় তুমি, আমার ভালোলাগায় ভালোবাসায় তুমি। তোমার জন্য হয়তো বা আমি রাজত্ব ছাড়তে পারবো না, কারণ আমার রাজত্বই নেই, কিন্তু আমার মনের গহীনে যে জায়গায় কারো আনাগোনা নেই- সেখানেই তুমি আসীন, আমার মনোজগতের রানী হয়ে। ভালোবাসি তোমায়, খু-উ-ব।

(আমার এই লেখাটিকে কেউ কেউ স্ত্রী-ভক্তি হিসেবে সমালোচনা করতে পারেন, কেউ কেউ মুখ টিপে হাসতে পারেন, কিন্তু আমার কাছে এই লেখা হচ্ছে এমন একজনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, যে তার জীবনের সবকিছু আমার সাথে শেয়ার করছে, কোনোরকম দ্বিরুক্তি ছাড়া।)

Advertisements

6 thoughts on “The Woman I Love

  1. লিসা, আমি তোমাকে ভালোবাসি-আমার জীবনের সমস্ত স্বত্তা দিয়ে। আমার শয়নে, স্বপনে তুমি, আমার কাজে-কর্মের প্রেরণায় তুমি, আমার ভালোলাগায় ভালোবাসায় তুমি। তোমার জন্য হয়তো বা আমি রাজত্ব ছাড়তে পারবো না, কারণ আমার রাজত্বই নেই, কিন্তু আমার মনের গহীনে যে জায়গায় কারো আনাগোনা নেই- সেখানেই তুমি আসীন, আমার মনোজগতের রানী হয়ে। ভালোবাসি তোমায়, খু-উ-ব।

    আমার পড়া শ্রেষ্ঠ স্বীকারোক্তির মধ্যে একটি। এতো সুন্দরভাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারলে বেশ ভালোই লাগতো।
    শুভেচ্ছা

  2. Amazing ! Lots of similarity between the Young Prince Edward and Young Niaz at his school days !!!

    Valobashi tomader valobasha k………………shukhi how …………….jug jugantore ……………….!

    The couple to whom I am grateful much for my earlier days of emotional instability……………..!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s